তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের তান্ডবে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ডোমকল বিডিও অফিস। বিডিওর উপর চড়াও হয় তৃণমূল। বিডিও’র ওপর হামলার অভিযোগও উঠে এসেছে। যদিও বিস্তারিত জানাতে চাননি ডোমকলের বিডিও শঙ্খদীপ দাস।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সহ সমিতির সদস্যদের একাংশকে এদিন তলব করা হয়েছে জেলা প্রশাসনিক ভবনে। ডেকে পাঠানো হয় বিডিওকেও। পঞ্চায়েত সমিতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয় সিপিআই(এম)।
বুধবার ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত বিষয়ক উপসমিতির সভা ছিল। সেই সভা চলাকালীন বিডিও’র সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়ান পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ, সভাপতি ও অন্যান্যরা। বিডিও অফিস সূত্রে খবর, টেন্ডার নিয়ে তুমুল বচসা বাঁধে। এর মাঝেই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। পরে তাঁরা বিডিওর বিরুক্ষে বিক্ষোভও দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিডিও অফিসে আসে ডোমকল থানার পুলিশ। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের শাসানির মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকরাও। সাফ বলা হয়, ‘বিডিওর দালালি চলবে না।‘ দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাহানা বিশ্বাস এদিন ডোমকলের বিডিও’র বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন। বিডিও’র বিরুদ্ধে কাজ না করার অভিযোগ এনেছেন ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মাহাবুব আলম। তাঁর দাবি, তাঁদের টেন্ডার ও তহবিল সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাব দেননি বিডিও।
যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডোমকলের বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস বলেন, বৈঠক চলাকালীন একটি ‘ইন্সিডেন্ট‘ ঘটেছে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানাবো” । তবে বিডিও অফিসে এই কান্ডে কার্যত হতভম্ব সাধারণ মানুষ।
সিপিআই(এম) ডোমকল এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘‘বিডিও অফিস থেকে পৌরসভা, পঞ্চায়েত সর্বত্র অবাধ লুটের লাইসেন্স চাইছে তৃণমূল নেতারা। গরিব মানুষের টাকা নিজেদের পকেটে ঢোকাতে চাইছেন। তার জেরেই এদিনের ঘটনা। পঞ্চায়েত সমিতি, পৌরসভা, পঞ্চায়েত সাধারণ মানুষের কোন কাজে আসছে না।‘‘
এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশও। এর আগে মুর্শিদাবাদেরই লালগোলায় বিডিও‘র আবাসনে ইট ছোঁড়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। এবার ডোমকলে বিডিও’র উপর চড়াও হলো তৃণমূল।
Comments :0