পুলিশি জুলুমবাজির বিরুদ্ধে জনরোষ দেখালো দাসপুরের মাটি। স্বাধীনতা আন্দোলনের মাটি দাসপুরের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুলিশ আধিকারীকে সতর্কীকরণ করে বুঝিয়ে দিলো সংবিধান মেনে কাজ করুণ, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার হরণ করার পদক্ষেপ নিলে, লবন সত্যাগ্রহিদের উপর অত্যাচার চালানো ভোলা দারগার পরিনতি করবে দাসপুরের সংগ্রামী মানুষ।
সিপিআই(এম)-র ডাকে দাসপুর থানা অভিযানে জনরোষ আছড়ে পড়ে। থানা ঘেরাও অবস্থান বিক্ষোভ আন্দোলনের মুখে দাসপুর থানার ওসি তার অভব্য আচরণ, বয়স্ক পার্টি নেতৃত্বদের হেনস্থা, অকারণে কলার ধরে থানায় নিয়ে গিয়ে বসিয়ে রেখে শাসকদল তৃণমূলের কাছে বাহবা সহ আপন হওয়ার প্রতিযোগিতা, এবং তিনিই ভোটের দায়িত্বে থেকে কি করতে হয় করবেন বলে হুমকি এমন ঘটনার পাশাপাশি দাসপুর থানা জুড়ে সমবায় নির্বাচনে বাম প্রার্থীদের নমিনেশন লাইন থেকে তুলে এনে থানায় দুদিন আটক রেখে তৃণমূলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী করার চক্রান্ত, এমনকি গত পঞ্চায়েত ভোটে সিপিআই(এম)র এক মহিলা প্রার্থীকে মনোনয়ন যাতে তুলতে না পারে সেই জন্য ব্লক অফিসের রাস্তা থেকে অপহরণের চেষ্টা, আইনের রক্ষক হয়ে সমাজ বিরোধীদের মতো তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করার ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে দাসপুর থানার ওসি অঞ্জনী তিয়ারীকে সতর্কীকরণ সহ অপসারনের দাবীতে থানা অভিযান সহ ঘেরাও বিক্ষোভ অবস্থান হয়।
দীপ্ত মিছিলে শ্লোগানে জানান দেয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর আক্রমণ ও পুলিশি বাধা, সাজানো মামলা, কুকথায় আক্রমণ সহকারে হুমকি এবং থানায় আটক করে রাখা আর মানবো না। রাজ্যে পুলিশ রাজ খতম করার শ্লোগান সহ স্বৈরাচারী আচরণ ও গণতন্ত্র হরণ, জুলুম বাজিকে ধিক্কার জানিয়ে জনরোষ আছড়ে পড়ে দাসপুর থানায়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর পুলিশ ও র্যাফ্ বাহিনী মতায়েন করা হয় দাসপুর থানার গেটে। সেই গেটের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান চলে দীর্ঘক্ষন। ডেপুটেশন নিতে বাধ্য হয় ওসি। তিনি বয়স্ক শ্রমিক নেতা গুনধর বোষের হাত ধরে দুঃখ প্রকাশ সহকারে ক্ষমা চেয়ে বলেন, এই ধরনের কাজ তিনি আর করবেন না।
বিক্ষোভ সভায় সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সমর মুখার্জি বলেন, "আমরা পুলিশের সাথে যুদ্ধ করতে আসেনি বা থানা ভাঙচুর করতে আসেনি। তিনি বলেন দাসপুরের মাটিতে কি বাম আমলে কি তৃণমূলের রাজত্বের এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়। একই ছাতার তলায় ভোটের বুথ ক্যাম্প হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাসপুর থানার পুলিশ অফিসারকে বলবো আপনি গত কয়েক বছর ধরে গণতন্ত্র হরণ, ভোট লুঠের রাজনীতি নিজে দাঁড়িয়ে করাচ্ছেন ও করছেন তা কী শোভনীয়। শ্রমিক নেতা গুনধর বোসকে পার্টি দপ্তরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গত ১২ ফেব্রুয়ারী রাজ্যের ধর্মঘটের দিন কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে আটক করলেন কোন আইনে। পুলিশের উর্দি পড়লে কি সভ্যতা আচার আচরন, আইনের শাসক জলাঞ্জলি দিয়ে অতি তৎপরতার কোন শর্ত পূরণ করেন না শাসক তৃণমূলের কাছে হিরো হতে চাইছেন। আপনি জনগণের কাছে কিন্তু জিরো। আপনার এই আচরণ পরিবর্তন করুণ। সতর্কীকরণ করে তিনি বলেন, এর আপনার বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কট শুরু করলে ভালো হবে। আপনি দিনে রাতে কোথাও যেতে পারেন সেটা রাইট আছে। কিন্তু কি কারনে, কি হেতু দাপাচ্ছেন সে সব দাসপুরের জনগণ লক্ষ রেখেছে যেমন, তেমনি আমাদের কাছেও খবর আছে। আইনের শাসন আমরা চাইছি। রাজ্যে কি পুলিশ রাজ জারি হয়েছে প্রশ্ন থাকলো।"
Comments :0