Assembly 2026: Manteswar

‘কৃষক মরছে বিষ খেয়ে, বাবুরা হেলিকপ্টারে চড়ে মিথ্যা বলছে’

জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

মন্তেশ্বর বিধানসভার সিপিআই(এম) প্রার্থী অনুপম ঘোষকে ঘিরে উচ্ছ্বাস।

শঙ্কর ঘোষাল: মন্তেশ্বর
এত দাম খাবো কি! গাঁয়ে কাজ নেই, কী করে বাঁচব! 
তৃণমূলের লোকজন প্রচারে এলে এমনই  স্পষ্ট কথা শুনিয়ে দিচ্ছেন চম্পা সোরেন, জেলেখা বিবিরা। 
মন্তেশ্বর বিধানসভার বিজুর-২ অঞ্চলের বেগুনিয়া, নান্না, নপাড়া, বিল বাড়ি, মুন্সি ডাঙ্গা এলাকায় তৃণমূল-বিজেপি প্রচারে গেলেই গাঁয়ের মহিলারা চেপে ধরছেন। তাঁরা বলছেন,  তোমরা বোঝাপড়া করেই  গাঁয়ের গরিবদের ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করেছ।  আগে কাজ চালু কর, তারপর ভোট চাইতে আসবে।  কাজ চাই, কাজ। 
মহিলারা বলছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছি তাতে সংসার চলছে না। গাঁয়ে গরিব পাড়ায় হাহাকার।  ভোট এলেই তৃণমূল আর বিজেপি  টাকার থলি নিয়ে ঘুরছে। কাউকে মদ দিচ্ছে। মোদী, মমতার সভায় গেলে ২০০-৪০০ টাকা দেবার প্রলোভন দিচ্ছে। কিন্তু এলাকার বাসিন্দা রূপা বাগ বলেছেন,  ‘‘ভোট এলেই দুই ফুল নানা লোভ দেখায়, ভোট ফুরালে আর চিনতে পারে না। এবার ভোটে তাই ঠিক করেছি, পাড়ায় একজন ভোটারও বিক্রি হব না। আমাদের ছেলেদের কাজ নেই, অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে পেটের ভাত জোগার করতে। আগে তো লাল ঝান্ডার সরকার ছিল। এ পাড়ার কাউকে অন্য রাজ্যে যেতে হয়নি কাজের জন্য। 
এদিন মন্তেশ্বরের সিপিআই(এম) প্রার্থী অনুপম ঘোষ গ্রামে এলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ, ভালোবাসা চোখে পড়েছে। 
জুলেখা বিবি বলেছেন, ‘‘ঋণের জালে আমরা জড়িয়ে পড়েছি। মাইক্রোফিনান্সের বাউন্সাররা জুলুম করছে। চড়া হারে সুদ কিভাবে শোধ করবো বলুন? বাড়ির ছেলেদের কাজ নেই, অভাব। তার উপর চক্রবৃদ্ধিহারে সুদের চাপে আমরা দিশেহারা। আমাদের পাশে কেউ নেই। পঞ্চায়েত তৃণমূলের নেতারা সব সুদের কারবারিদের মদতে চলে। 
বিজুর-২ এলাকায় হিন্দু-মুসলিম মানুষ পাশাপাশি বাস করেন। আছেন বহু আদিবাসী জনজাতির মানুষও। এসআইআর’র ফলে নাম বাদ গেছে। যেমন মুসলিমদের তেমনই  হিন্দুদেরও।  আদিবাসীদেরও প্রচুর নাম বাদ যাওয়ার জন্য মানুষ আতঙ্কে আছেন।  বাদলি সোরেন বলেছেন, ‘‘এখানে যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁদের কে ‘ঘুষপেটিয়া’ খুঁজে দিন মোদী, অমিত শাহ! ওরা মিথ্যা কথা বলছে।’’ 
এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। সেই আলুর দাম পাননি কৃষক। ১০০ টাকা বস্তায় আলু কেনার লোক ছিল না। এখন টাকার থলি নিয়ে ভোট কিনতে এসেছে  তৃণমূল বিজেপি। 
মুন্সি ডাঙ্গার চম্পা সোরেন বলেছেন,  ‘‘সরকার ছিল লাল ঝান্ডার, কৃষক যখনই সংকটে পড়েছে মাঠে নেমে  ধান, আলু কিনে কৃষকের পাশে থেকেছে। কখনও কৃষককে আত্মহত্যা করতে হয়নি। এখন কৃষক মরছে বিষ খেয়ে আর হেলিকপ্টার চড়ে বাবুরা মিথ্যা কথা বলছে।’’  

Comments :0

Login to leave a comment