দশ ঘণ্টার বেশি বিতর্কের পর লোকসভায় ভোটাভুটি হলো ওয়াকফ বিলে। রাত প্রায় একটাতেও অধিবেশন বন্ধ হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও পাশ করানো হয়েছে ওয়াকফ বিল।
দেশে ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আইন বরাবর রয়েছে। কিন্তু বিজেপি ওয়াকফ সম্পত্তিকে ফের ধর্মীয় মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে নেমেছে। নতুন আইনে সংখ্যালঘুদের অধিকারের ওপরে আঘাত নামানো হয়েছে। হিন্দু মন্দির রক্ষণাবেক্ষণে তৈরি কমিটিতে কোন অ-হিন্দু কে রাখা হয় না। কিন্তু এই বিলে ওয়াকফ সংক্রান্ত কমিটিতে অ-মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিবাদ নিষ্পত্তিতে জেলাশাস ক বা সমমর্যাদাসম্পন্ন আধিকারিকদের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিচার বিভাগকে এড়িয়ে বিজেপি সরকারে আসীন এমন রাজ্যগুলোতে প্রশাসনিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে একতরফা সিদ্ধান্তের রাস্তা খোলা হয়েছে।
প্রায় ১০ ঘন্টা বিতর্কে এরকম বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সরকারপক্ষকে কড়া আক্রমণ করেছেন বিরোধীরা। বিতর্কের শেষে বিরোধীরা ‘ডিভিশন’ চান। গভীর রাতেই ভোটাভুটি হয়েছে। বিভিন্ন সংশোধনী যদিও পাশ করানো হয়েছে ধ্বনি ভোটে।
কংগ্রেস, বামপন্থীদের পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের দলগুলি এই বিলের করা বিরোধিতা করেছে। মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিল বলেছেন বিরোধী একাধিক নেতা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু যদিও বারবার দাবি করেছেন যে সংখ্যালঘুদের অধিকারের ওপর আক্রমণ আনার জন্য এই বিল নয়। তবে বিভিন্ন যুক্তি দিলেও বিজেপি জোট সরকারের এমন পদক্ষেপ প্রশ্ন তুলবে আন্তর্জাতিক স্তরেও।
Waqf Bill
লোকসভায় ভোটাভুটি, পাশ ওয়াকফ বিল

×
Comments :0