microfinance trap

ফের মাইক্রোফিনান্সের জালে সিঙ্গুরে আত্মঘাতী মহিলা

জেলা

মাইক্রোফিনান্সের লোন নিয়ে জর্জরিত হয়ে  আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন হুগলীর সিঙ্গুর থানার কাঁঠালিয়া গ্রামের এক বিধবা মহিলা। মৃতের নাম কল্যাণী সাঁতরা( ৪৭)। পরিবারসূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে নিজের শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানে নাইলনের দড়ি লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠেনি দেখে প্রতিবেশীরা মহিলাকে ডাকাডাকি করেন। কোন সাড়া না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ছেলে পল্লব সাঁতরাকে ডেকে জানলা খোলানো হলে ওই মহিলার গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। বাড়িতে মৃতার একমাত্র পুত্র ও পুত্রবধূ রয়েছেন।   
পুত্র পল্লব সাঁতরা জানায় সে নিজে  জুয়েলারী  সেটিংয়ের কাজ করে । অভাবের সংসার। জমিজমাও  নেই। সামান্য ভিটেটুকু সম্বল। মা গরু পালন করেন। সংসার সামাল দিতে মা চারটি সংস্থা থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ঋণ নেন । তাঁর কিস্তি দিতে হয়। জানা গেছে, বন্ধন ব্যাঙ্ক, আর্শীবাদ মাইক্রোফাইনান্স লিমিটেড, ফিউশন ( Fusion) ও সম্পূর্ণা নামের সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন কল্যাণী সাঁতরা।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগে ১০০ দিনের কাজ করতেন।  প্রায় চার বছর ধরে সেই কাজ বন্ধ। এদিকে ছেলের তেমন  রোজগার নেই। দোকান থেকে অর্ডার নিয়ে এসে বাড়িতে কাজ  করেন। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী পরিবারের । গ্যাস কিনতে না পারায় মাঠ থেকে শোলা গাছ কেটে শুকনো করে রান্না করতে হয়। এমন সঙ্কটের মধ্যে পড়েই আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেশীদের অনুমান ।  
  কাঁঠালিয়া গ্রামে কয়েকটি গরিব তপশীলি পরিবারের বসবাস। বেশিরভাগ পরিবারের নিজস্ব কোন জমিজমা নেই।  কিছুজন অন্যের জমি   লিজ নিয়ে চাষবাস করেন। কেউ কেউ অসংগঠিত শ্রমিকেরও কাজ করেন। পরিযায়ী শ্রমিকও রয়েছেন কয়েকজন। ভিন রাজ্যে কাজে যান। সব মিলিয়ে অভাবের  সংসারে  লড়াই,মেহনত করে জীবনযাপন করেন তাঁরা । এরমধ্যেই মাইক্রোফিনান্স থাবা বসিয়েছে। জানা গেছে,  এখানকার  বেশিরভাগ পরিবার মাইক্রোফিনান্স খপ্পরে পড়েছে। কোন কোন পরিবার এই ঋণ নিয়ে সর্বশ্রান্তও হয়ে পড়ছে। অভিযোগ কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদার পর তাগাদা চলে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়িতে বসে থাকে ঋণ আদায়কারীরা। কস্তির টাকা যে করেই হোক আদায় করে নিয়ে যায় তাঁরা । গত চার বছর আগে এই বুথের পাশের পাড়ার প্রভাকর চক্রবর্তী নামে এক মধ্য বয়স্ক ব্যক্তি মাইক্রোফিনান্সের তাগাদার চাপে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা । গ্রামে এখন রব উঠেছে মাইক্রোফিনান্স বন্ধ করতে হবে। এখানকার এক বাসিন্দা জানালেন, অবিলম্বে সরকারকে এই ধরনের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় গরিব পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়ে যাবে।

Comments :0

Login to leave a comment