সাইক্লোন অর্ণব-র জেরে অন্ধ্রপ্রদেশে ৫ জনের মৃত্যু সহ ৩১ টি বাড়ির ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ওই রাজ্যের ৫৭ হাজারের ও বেশি মানুষকে রিলিফ ক্যাম্পে এবং ওডিশার ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও, বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ানাম উপকূলে ল্যান্ডফল করার পর ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে।
ঘূর্ণিঝড়টি ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার\ ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতিবেগ নিয়ে উপকূল অতিক্রম করার সময় অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় থেকে দুর্বল হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়’-এ পরিণত হয়েছে। মৌসুম ভবন জানিয়েছে, ছত্তিশগড়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে এটি আরও দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
ঘূর্ণিঘড়টি দুর্বল হয়ে পড়া সত্ত্বেও, দক্ষিণ ওড়িশায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ওডিশা সরকার নিচু এলাকা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করেছে।
এরই মধ্যে, অন্ধ্রপ্রদেশে গাছ পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম গোদাবরী জেলার ভীমাবরম এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ একটি গাছ পড়ে ৪৬ বছর বয়সী ছক্কা কিশোর কুমার এক ব্যক্তির মৃত্য হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার সকালে ভীমাবরমের একটি মন্দিরের কাছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ধসে রামবাবু নামের এক সংবাদপত্র বিতরণকর্মীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তিনি বর্তমানে আইসিইউ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্য একটি ঘটনায়, বিশাখাপত্তনম জেলায় মঙ্গলবার রাতে এক ৫৩ বছর বয়সী ব্যক্তি একটি কৃষি জমির সেচখালের ওপর ছিঁড়ে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে শক লেগে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, আনকাপল্লি জেলার ইলামানচিলি শহরে বুধবার সকালে ৫৫ বছর বয়সী এক মহিল বাড়ির বাইরে অসাবধানতাবশত একটি উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারের ওপর পা দিয়ে ফেললে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। পাশাপাশি , আনাকাপল্লে, কাকিনাদা, কোনাসীমা এলাকাতেও মৃত্যুর ঘটনার খবর সামনে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পূর্ব উপকূল বরাবর রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং ৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যবস্থা মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর পরিচালক প্রসন্ন প্রধান। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বুধবার ভুবনেশ্বর-জেয়পুর-বিশাখাপত্তনম রুটে চলাচলকারী নয় আসনবিশিষ্ট একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়ে মৌসুম ভবন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, বুধবার কলকাতায় আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার মতো হিমালয়-সংলগ্ন জেলাগুলোতেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
নিরাপত্তাজনিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কিছু উড়ান বাতিল বা ব্যাহত হয়েছে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এছাড়া, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও সংলগ্ন সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
Cyclone Arnab Update
অর্ণব'র জেরে অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ৫, ৫৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরানো হলো নিরাপদ আশ্রয়ে
×
Comments :0