প্রিতম ঘোষ
প্রতীকটি জনপ্রিয় হয়েছিল জাপানি মাঙ্গা ও অ্যানিমে সিরিজে। খড়ের টুপি পরা খুলির এই প্রতীক ‘ওয়ান পিস’ সিরিজ থেকে নেওয়া। কিন্তু প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং বন্ধুত্বের এই প্রতীক দেখা যাচ্ছে দেশে দেশে নবীন অংশের নানা আন্দোলনে। স্লোগান আর প্ল্যাকার্ডের মাঝে দেখা যাচ্ছে কালোর ওপর সাদা রঙের হাসিমুখের খুলি প্রতীকটি।
একদিকে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট। তার সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে দুর্নীতি এবং স্বৈরাচার। বিশ্বের দেশে দেশে নবীন অংশ শামিল হচ্ছে তারই বিরুদ্ধে।
ভারতে যেমন ‘জেন-জি’ আন্দোলন সাড়া ফেলে দেয় গত জুলাইয়ে পরীক্ষা বেনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে। পদত্যাগ করতে হয় শিক্ষামন্ত্রীকে। এখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনেও একের পর এক বিক্ষোভে শামিল এই অংশ। পর্যবেক্ষকদের বড় অংশ বলছেন, এই লড়াই আসলে দেশে গণতন্ত্র ফেরানোর, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক মর্যাদার।
২০২৫ সালে নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সের মতো দেশে জেন-জি বিক্ষোভে এই পতাকা দেখা গিয়েছিল। কখনও ছিল প্রতিবাদীদের টি-শার্টে।
ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে সীমানা পেরিয়ে হচ্ছে সংযোগ। জাপানি মাঙ্গা বা অ্যানিমে কেবল কোনও ভৌগলিক সীমায় আটকে নেই। প্রতিবাদেরও সংস্কৃতিতেও তার ছাপ দেখা যাচ্ছে।
‘ওয়ান পিস’-এর নায়ক মাঙ্কি ডি লুফি ও তার সঙ্গীদের কাহিনীতে স্বাধীনতা, বন্ধুত্ব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা দেয়। সেই কল্পকাহিনির প্রতীক নেমে আসছে বাস্তবের মাটিতে।
২০০৮ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে সঙ্কট যেভাবে ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে তা থেকে বেরনোর উপায় খুঁজে পায়নি বিশ্ব পুঁজিবাদ। কর্পোরেটের মুনাফাকে নিশ্চিত করতে জীবনমানের সাধারণ অধিকারের ওপর কোপ পড়ছে। কাজের সুযোগ কেবল কমছে না, নিশ্চিত বা স্থায়ী ‘ভালো কাজ’ প্রায় উবে যাচ্ছে। শ্রম সুরক্ষা কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছে ‘সহজে ব্যবসা’-র স্লোগানে। সেই সঙ্গে গণতন্ত্রের জায়গা দখল করে নিয়েছে স্বৈরাচার। এক অংশকে অন্যের শত্রু করে ‘অপরায়ন’-র রাজনীতি শাসনের ফ্যাসিবাদী চেহারা বেআব্রু করছে।
এই তীব্র অনিশ্চিত এবং একইসঙ্গে অগণতান্ত্রিক পরিবেশের সবচেয়ে বড় শিকার নতুন প্রজন্ম। বিশ্লেষকদের বড় অংশ বলছেন ভারতের মতো দেশে দেশে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
নেপাল থেকে ইন্দোনেশিয়া: ‘ওয়ান পিস’ পতাকা
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে সরকারবিরোধী তরুণদের আন্দোলনের সময় এই পতাকা দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু বিক্ষোভ দ্রুত দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সরব হয়। আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন।
ইন্দোনেশিয়াতেও সাংসদদের সুযোগ-সুবিধা, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময় পতাকাটি ব্যবহৃত হয়। ফিলিপাইনসে সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেও দেখা যায় একই প্রতীক। পরবর্তী সময়ে মাদাগাস্কার, মরক্কো, পেরু ও অন্যান্য দেশের যুব আন্দোলনেও এর উপস্থিতি নজর কাড়ে।
বিশ্বজুড়ে জেন-জি আন্দোলনে খড়ের টুপিওয়ালা খুলির এই পতাকা বার্তা দিচ্ছে প্রতিবাদের। বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সংহতি, বন্ধুত্বেরও।
Comments :0