মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে মহিলা বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার ধানমন্ডিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এদিন বিকেলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মহিলা বাউল শিল্পীদের গান পরিবেশনে আপত্তি তুলে গানের আসর বন্ধের ঘটনার প্রতিবাদে ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। এদিন বিকেল ৪টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে মীনা বাজারের সামনে মানববন্ধন করার জন্য জড়ো হন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গানসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা, শিল্পীদের ওপর হামলা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। মানববন্ধন শুরুর আগে আয়োজকদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দীপক শীলকে আটক করে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সংস্কৃতিকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ তৈরি হয়। তাঁরা অভিযোগ করেন, পুলিশ ওই স্লোগান দিতে নিষেধ করে এবং প্রতিবাদ জানালে দীপক শীলকে আটক করে।
অভিনেত্রী সুমনা সোমা বলেন, ‘‘দেশজুড়ে বাউলদের ওপর হামলা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তাঁরা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।’’ দীপক শীলকে আটক করার ঘটনায়ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় দীপক শীলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা পুলিশ জানিয়েছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উসকানিমূলক স্লোগান ও বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানানোর পর কথা কাটাকাটি হয়। যদিও সংস্কৃতিকর্মা জানিয়েছেন তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাউল গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাধা ও আপত্তির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। তাঁদের মতে, গান, শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। কোনো আয়োজন নিয়ে আপত্তি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। শিল্পীদের গান পরিবেশনের অধিকার বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। তাঁদের দাবি এদিনের কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। বরং বাউল সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর বাধার প্রতিবাদ জানানোই ছিল এর উদ্দেশ্য। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
Comments :0