SILIGURI

শিক্ষিকাকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা, আত্মহত্যার চেষ্টা অভিযুক্তের, ঘটনায় চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

জেলা

বুধবার সাত সকালে এক স্কুল শিক্ষিকাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করার চেষ্টার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়িতে। এদিন সকাল প্রায় সাড়ে ছয়টা নাগাদ প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ছুরির কোপে জখম হন শিলিগুড়ির শান্তিনগর এলাকার শিক্ষিকা শিউলি দত্ত। জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন শিলিগুড়ি শান্তিনগরের বাসিন্দা ওই শিক্ষিকা। অভিযোগ, প্রাতঃভ্রমণে বের হবার পর থেকেই শিক্ষিকার পিছু নেয় প্রতিবেশী অভিযুক্ত সজল দাস। কিছুক্ষণ শিক্ষিকার পিছু নেবার পর আচমকাই ছুরি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ এলোপাথারি ছুরি চালায়। শিক্ষিকা গলায় মুখে আঘাত লাগে। অভিযোগ শিক্ষিকার মাথার চুল কেটে রাস্তায় ফেলে দেয় অভিযুক্ত। প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষিকা চিৎকার শুরু করেন। কোনক্রমে সেখান থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। অভিযুক্ত ওই বাড়িতেও ঢুকে পড়ে শিক্ষিকার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি দিয়ে কোঁপ বসায়। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত ছুরি নিয়ে তাদের ওপরেও হামলার চেষ্টা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছুরির কোঁপে শিক্ষিকা অজ্ঞান হয়ে গেলে সেখানেই অভিযুক্ত বিষ পান করে রক্তমাখা ছুরিটি নিজের পেটে ঢুকিয়ে দেয়। 
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভক্তিনগর থানার আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় শিক্ষিকা শিউলি দত্ত ও অভিযুক্ত সজল দাসকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। সজলের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অন্যদিকে জখম শিক্ষিকার মুখ, গলা সহ শরীরের নানা জায়গায় সেলাই পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে শিক্ষিকার অবস্থা বর্তমান স্থিতিশীল রয়েছে। 
শিক্ষিকার পরিবারের অভিযোগ, আগেও নানাভাবে উত্যক্ত করেছে অভিযুক্ত। এই বিষয়ে আশিঘর ফাঁড়ি ও মহিলা থানার পুলিশকে একাধিকবার জানানোও হয়েছিলো। তাদের অভিযোগ পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রে খবর, শিলিগুড়িতেই একটি বেসরকারী স্কুলে শিক্ষকতা করেন শিউলি দত্ত। অভিযুক্ত সজল দাসের বাড়ির থেকে কিছুটা দুরেই একটি বাড়িতে নাবালক ছেলেকে সাথে নিয়ে ভাড়া থাকেন বিবাহ বিচ্ছিন্না ওই শিক্ষিকা। এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুজনেই দুজনকে দীর্ঘদিন ধরে চেনে। হামলাকারী সজল দাস বিবাহিত, বয়স আনুমানিক প্রায় চল্লিশোর্ধ। শিউলি দত্ত ও সজল দাসের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ইদানিং কোনকারনে সম্পর্কে তিক্ততা বেড়েছিলো। শিলিগুড়ির ডিসিপি রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Comments :0

Login to leave a comment