এসআইআর-এর মাধ্যমে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২০১৫ সালের স্তরে নেমে এসেছে। 'বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর-এর আগে এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৫.২ কোটি। খসড়া তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১.৭৯ কোটিতে। ২০১৫ সালে এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল ৮১.৬৯ কোটি। (আরও দেখুন: ভোটাধিকার এবং সংবিধান রক্ষার দাবিতে আগামীকাল মিছিল বামপন্থী দলসমূহের)
সামনে ভোট রয়েছে এমন রাজ্য, যেমন পাঞ্জাব বা উত্তর প্রদেশেও বড় মাত্রায় নাম বাদ পড়েছে খসড়ায়।
প্রশ্ন হলো, জনসংখ্যা বাড়লে ভোটার তালিকায় নাম এগারো বছরের পুরনো স্তরে ফিরে যায় কী করে? এই তথ্যে আরও জোরালো হয়েছে বিরোধীদের দাবি। বামপন্থী সহ বিরোধী বিভিন্ন দলই বলছে যে বিজেপি-কে সুবিধা করে দিতে প্রকৃত ভোটদাতাদের নাম কাটা হচ্ছে এসআইআর-এ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৬.৬ কোটি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তা বেড়ে ৯২.৮ কোটিতে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে এসআইআর-এর আগে সংখ্যা আরও বেড়ে ৯৫.২ কোটি হয়েছিল। কিন্তু এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ১৩.৪ কোটি ভোটারের নাম আর তালিকায় নেই।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং এসআইআর শুরুর মধ্যে ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছিল। অন্যদিকে ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা কমেছিল। তবে দুই বিভাগেই এমন সাতটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের হার ১০ শতাংশের বেশি।
ভোটার বৃদ্ধির তালিকায় থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রে লোকসভা ভোট থেকে এসআইআর-র আগে ভোটার বেড়েছিল ৫.৬ শতাংশ। কিন্তু খসড়া তালিকায় ২১ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গুজরাতে ভোটার বেড়েছিল ৫.৫ শতাংশ, বাদ পড়েছেন ১৪ শতাংশ। তামিলনাড়ুতে ভোটার বৃদ্ধির হার ছিল ২.৬ শতাংশ এবং বাদ পড়ার হার ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, ভোটার সংখ্যা কমে গিয়েছে এমন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে চণ্ডীগড়ে ভোটার হ্রাসের হার ২৭ শতাংশ। এ রাজ্যে আর খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৪০ শতাংশ নাম। নাগাল্যান্ডে ভোটার কমেছিল ৯.৬ শতাংশ, খসড়ায় ছিল ১১.৭ শতাংশ। উত্তরাখণ্ডে ভোটার কমেছিল ৫.৭ শতাংশ এবং বাদ পড়েছিল ১০.৪ শতাংশ।
২০১৪ সালের তুলনায় এসআইআর-পরবর্তী খসড়া তালিকায় মহারাষ্ট্রে ভোটার সংখ্যা ২০১৪ সালের তুলনায় ১.৪ শতাংশ কমেছে। তামিলনাড়ুতে বেড়েছে ১ শতাংশ এবং গুজরাতে প্রায় ৯ শতাংশ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে চণ্ডীগড়ে ১১ শতাংশ কমেছে, উত্তরাখণ্ডে ৪.৯ শতাংশ বেড়েছে এবং দিল্লিতে প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে সংখ্যা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যে ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর আগে ভোটার সংখ্যা বেড়েছিল, সেখানে বৃদ্ধির হার ছিল ০.৫ থেকে ৫.৬ শতাংশ। সেই রাজ্যগুলিতেই খসড়া তালিকায় বাদ পড়ার হার ছিল ৫ থেকে ২১ শতাংশ। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে থাকা রাজ্যগুলিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে খসড়ায়। উত্তর প্রদেশে বাদ পড়ার হার ১৮.৬ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৪ শতাংশ এবং পাঞ্জাবে ৯.৬ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসছে—২০১৫ সালের পর ভারতের মোট জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ভোটারের সংখ্যা কেন আবার ২০১৫ সালের কাছাকাছি নেমে এল? জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে ভোটার সংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি কতটা হয়েছে এবং কতজন নতুন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্থানান্তর বা বসবাসের পরিবর্তন হয়ে থাকলে, সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ভোটার তালিকায় কতটা পড়েছে, যে রাজ্যে মানুষ স্থানান্তরিত হয়ে বসবাস শুরু করছেন সেখানে তাঁদের নাম যুক্ত হওয়ার ফলে ভোটারের সংখ্যা প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে কি না—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন। SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা এবং বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ভোটার সংযোজন, আন্তঃরাজ্য স্থানান্তর এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মধ্যে সম্পর্কটি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
SIR Draft Deletion
এসআইআর-র খসড়ায় নাম বাদের জেরে ভোটদাতার সংখ্যা কমে ২০১৫ সালের স্তরে!
×
Comments :0