নির্বাচন কমিশন স্বীকার করে নিল যে দশ মাসের মধ্যে আপত্তি জানিয়ে ১৪টি চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তারপরও তাকে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছে।
কমিশনের পক্ষে বুধবার দাবি করা হয়েছে যে গত এক বছরে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কিন্তু ধরা পড়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নির্দিষট প্রশ্নের উত্তর দেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন ডঃ সুখবীর সিং সাঁধু এবং ডঃ বিবেক যোশী। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা যার মধ্যে রয়েছে এসআইআর। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-র প্রতিবেদনে এই মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিশদে।
তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন যে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম-৬ বদলের সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দিয়েছে কে? পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ ভোটদাতার বিপক্ষে নির্বাচন কমিশনকে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত কার? নির্বাচন কমিশনের ‘ইসিআইনেট’ খতিয়ে দেখে অডিট রিপোর্টের দাবি গ্রাহ্য করা হয়নি? আরও গুরুত্বপূর্ণ, মে থেকে আগস্টের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য একসঙ্গে বৈঠক করেননি। কেন হয়নি পূর্ণ কমিশনের বৈঠক, সে প্রশ্নের জবাবও দেয়নি নির্বাচন কমিশন।
রাজনৈতিক স্তরে বিরোধীরা বারবারই বলেছে যে জ্ঞানেশ কুমার আসলে নির্বাচন কমিশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ পালন করে চলেছেন। সংবিধানের নির্দেশ মতো কমিশন স্বাধীন অবস্থান নিতে পারছে না। ‘ইন্ডিয়ান একসপ্রেস’ এদিন জানিয়েছে যে গত ২১ সেপ্টেম্বর কমিশনকে প্রশ্নগুচ্ছ পাঠানো হয়েছিল। জবাব আসেনি।
এসআইআর প্রক্রিয়া সারা দেশে নাম বাদ পড়েছে কোটির অঙ্কে। যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে পাঠানো হয়েছে নোটিশ। কমিশন বলেছে তাদের প্রযুক্তি ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নোটিশ এসেছে। সেগুলিই পাঠানো হয়েছে। এই প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তীব্র।
কমিশন এদিন ফের দাবি করেছে যে ‘তথ্য সুরক্ষা বিধি মেনে অবৈধ বিকৃতির সম্ভাবনা না রেখে প্রযুক্তি কাজ করছে।’ আরও দাবি করেছে যে ইলেকশন রেজিস্টেশন অফিসার এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিধি মেনে কাজ করছেন।
ঘটনা হলো, গত ১৪ আগস্ট সুখবীর সিং সাঁধুর দেওয়া চিঠিতে একেবারে অন্য কথা বলা হয়েছে। তিনি লিখেছিলেন যে নির্বাচন আধিকারিকরা অভ্যন্তরীণ পোর্টাল ইআরও নেটে তাঁদের পুরোপুরি ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। সাঁধু জানিয়েছিলেন যে এই আধিকারিকদের বাধা দেওয়ার কোনও আইনি এক্তিয়ার নেই তথ্য প্রযুক্তি দপ্তরের ডিরেক্টরের।
গত ১৬ মে আরেক নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশী লিখেছিলেন যে আইনের সংশোধন না করে ফর্ম-৬ বদলানো যায় না। ১৯৬০’র নির্বাচক নথিভুক্তি আইন অনুযায়ী তৈরি হয়েছে এই ফর্ম।
EC Evades Questions
‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বলে প্রশ্ন এড়ালো নির্বাচন কমিশন
ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে বামপন্থীরা বারবার নেমেছেন পথে।
×
Comments :0