এইআইআর’র নামে সর্বজনীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একদিকে বিজেপি’র নির্দেশে সে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। আরেকদিকে রাজ্যের তৃণমূল সরকার নিযুক্ত ইআরও বা বিডিও-রা সেই পরিকল্পনাতেই চলছেন।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে এই মর্মে ক্ষোভ জানিয়েছেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। রাজ্যজুড়ে বিডিও দপ্তরে বিক্ষোভের বিভিন্ন ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে।
খসড়া ভোটার তালিকায় কোনও নামে আপত্তি জানানোর ৭ নম্বর ফর্মও জমা পড়ছে দেদার। হেনস্তার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই প্রসঙ্গে চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘সাত নম্বর ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি যা শুরু করেছে তা পশ্চিমবাংলায় খুব বিপজ্জনক হতে চলেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। ফলে বিক্ষোভ বাড়ছে।
এদিকে কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন শুনানির মেয়াদ বাড়াতে পারে। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর শুনানি ঘিরে হয়রানি বন্ধ করার জন্য একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে ফের গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচনার নির্দেশও দিয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সির জন্য যাদের ডাকা হচ্ছে তার তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের নতুন পদক্ষেপ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাঝে বারবার বিধি বদলেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন চক্রবর্তী।
চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল নির্জীব হয়ে গিয়েছিল। এসআইআর-এর মাধ্যমে চাঙ্গা করেছে বিজেপি। এসআইআর-কে ঘিরে অন্যায়ের ফলেই মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। আর বিক্ষোভের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে তৃণমূল এবং বিজেপি। আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় সিপিআই(এম)’র বিক্ষোভে লাঠি চালাচ্ছে অথবা বাধা দিচ্ছে। মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জে বিডিও দপ্তরে ডেপুটেশনে বাধা দেয় পুলিশ। আর দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থি থানার পুলিশ লাঠি চালানোর পাশাপাশি গ্রেপ্তার করেছে সিপিআই(এম) কর্মীদের।
চক্রবর্তী বলেন, সিপিআই(এম) প্রথম থেকেই নির্ভুল ভোটার তালিকার কথাই বলছে। কিন্তু তার নামে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হচ্ছে বিএলও-দেরও। তাঁরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একটি নির্দিষ্ট কাজের পদ্ধতি নেই প্রতিদিন পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে। মানুষের কাছে উত্তর দিতে হচ্ছে বিএলও-দের। নির্বাচন কমিশনকে চালাচ্ছে বিজেপি আর ইআরও-দের চালাচ্ছে তৃণমূল। মাঝখানে সমস্যায় পড়ছেন বিএলও-রা। ফলে কোর্টকে বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে বিএলও-দের নিরাপত্তা দেবে রাজ্যের ডিজি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রতিদিন একটা করে নির্দেশিকা জারি করছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে মানুষের সর্বজনীন ভোটাধিকারের সুযোগ। কিভাবে শুনানিতে ডাকা হয়েছে তারও কোন সঠিক নির্দেশিকা নেই। একটি বুথের ৮০০ ভোটারের মধ্যে ৪০০ ভোটারকেই শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রশ্ন করে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে।
এদিকে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সভা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় চক্রবর্তীকে। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সভা করেছেন সিঙ্গুরে। এরপর সেখানে নাকি সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এটা নাকি পাল্টা সভা। মমতা সিঙ্গুরের কলকারখানা ধ্বংস করেছেন, যুবকদের স্বপ্ন ধ্বংস করেছে। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল বিজেপির রাজনাথ সিংও। প্রধানমন্ত্রী শিল্পের ঘোষণা করবে বলে বিজেপি অনেক কথা বলল। কিন্তু একবারও শিল্পের কথা বললেন না মোদী। সিঙ্গুরে শিল্প ধ্বংসের পেছনে বিজেপিরও হাত রয়েছে।
Comments :0