চাপের মুখে পড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। নথি যাচাইয়ের কাজ সহজ করার দাবি জানানলো। তবে নির্বাচন কমিশনের কাজের ধারা নিয়ে ওঠা গুরুতর একাধিক প্রশ্ন ঝুলেই রইল। এদিনের ঘোষণার পরও একতরফা নাম বাদের আশঙ্কা আদৌ কমল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন থাকল।
নির্বাচন কমিশন শনিবার জানিয়েছে যে, ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যা বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি সংক্রান্ত নোটিশ পাওয়া ভোটারদের ‘ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (ইআরও)-এর সামনে বাধ্যতামূলক শুনানিতে হাজির হতে হবে না। তার পরিবর্তে, বিএলও ওই ভোটারদের বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করে, সেই নথি 'ইসিআইনেট'-এ আপলোড করবেন।
উল্লেখ্য, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর বেরিয়ে পড়া চিঠিতে ইআরও-দের কাজের এক্তিয়ার কেড়ে নেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অ্যাপে তাঁদের মতামত জানানোর সুযোগ রাখা হয়নি। এখন ইআরও-দের মতামত জানানোর সুযোগ থাকবে কিনা বলা হয়নি। ফলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের মরজি মাফিক নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকছেই।
কমিশন শনিবার আরও জানিয়েছে যে, এখন থেকে শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রেই শুনানি করা হবে এবং তা যথাসম্ভব অনলাইনেই করা হবে। এছাড়া, কোনও ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হতে না পারলে তাঁর হয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন যেসব মানুষ অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প ও হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের। নাইট শেল্টারে বসবাসকারী, শ্রমিক, দরিদ্র এবং গৃহহীন মানুষদের জন্য এই পরিষেবাগুলির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
'ইসিআইনেট' ব্যবস্থাটি নির্বাচনী আইন ও পদ্ধতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা খতিয়ে দেখার জন্য এই বিষয়টিকে পর্যালোচনার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। একজন সিনিয়র উপ-নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি এই পর্যালোচনার বিষয়টি পরিচালনা করবে। এই প্যানেলে আইআইটি বা আইআইআইটি'র একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কমিশনের তরফে দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের এসআইআর'র সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। দিল্লিতে দাবি ও আপত্তি দাখিলের সময়সীমা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে, নোটিশ দেওয়া এবং দাবি জানানো ও আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে ভোটাররা এখন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। এগুলি নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে দেখা গিয়েছে ভোটার তালিকায় নাম দিতে নির্বাচন কমিশন নিজে আপিল করেছে বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দুই নির্বাচন কমিশনার চিঠি দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্ন করেছে তা নিয়েও। তাঁদের দাবি, কমিশনে নাম বাদ দেওয়ার এমন পালটা আপিল জানানোর কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি। তা’হলে ১৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার জন্য আপিল হলো কিভাবে। সব নথি জমা করার পরও বহু নাম বাদ পড়েছে। দেশের ভোটার তালিকার বাইরে ১৩ কোটি নাম। কমিশন এদিন ঐকমত্যের দাবি জানালেও তার বাস্তবতা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
Ellection Commition
চাপের মুখে বৈঠক, সংশয় বহাল, নথি যাচাইয়ের নিয়ম বদল
×
Comments :0