নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সার্বিক সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সম্প্রতি বিস্ফোরক তথ্য ফাঁসে যে গুরুতর প্রশ্নগুলি উঠেছে, কমিশনের শনিবারের বিবৃতিতে তার কোনও উত্তরই দেওয়া হয়নি। রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নির্বাচনী ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করা এবং ফর্ম-৬ বেআইনিভাবে বদল করার মতো নানা নির্বাচনী নিয়মকানুন পালটে দেওয়ার বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার বারংবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পলিট ব্যুরো জানিয়েছে, দেশজুড়ে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটেই বিরোধী দলগুলি ও নাগরিক সমাজ নানা প্রশ্ন তোলে। এখন কমিশনের ভিতর থেকেই এই তথ্য ফাঁস হওয়ায় সেই আশঙ্কা ও উদ্বেগ আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। আসল প্রশ্ন হলো— সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া আইন মেনে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে কি না; যোগ্য ভোটাররা যাতে কোনোভাবেই অন্যায্যভাবে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন তার পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা রয়েছে কি না।
সিপিআই(এম)’র অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে এই মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি, আবার ফাঁস হওয়া তথ্যগুলিকে অস্বীকারও করা হয়নি। শাসকদলের নির্দেশে কাজ করা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর খামখেয়ালি এবং স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের জেরে নাগরিকদের যে ব্যাপক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা নিয়েও জবাবদিহিতার কোনও লক্ষণ নেই।
এই সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পলিট ব্যুরো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। তিনি পদত্যাগ না করলে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়মের দায়ে তাঁকে অপসারণ (ইমপিচ) করতে হবে। পাশাপাশি এই এসআইআর প্রক্রিয়াও অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
জ্ঞানেশ কুমারকে এই সবকিছুর দায় নিতেই হবে। বিশেষ করে কেরালার এক প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে যে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন, তারপর তাঁর পদে বহাল থাকার আর কোনও নৈতিক অধিকার থাকে না।
Polit Bureau on EC Statement
আসল প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন: পলিট ব্যুরো
×
Comments :0