সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক সূচকে এক নম্বরে থাকা দেশের একাধিক সাংবাদিক প্রশ্ন করছেন ১৫৭ নম্বরে থাকা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু উত্তর না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নীরবে মাথা নিচু করে দ্রুত হল থেকে পালিয়ে গেলেন। এমন ভাইরাল ভিডিও দেখলো গোটা বিশ্ব। বলার অপেক্ষা রাখে না এক নম্বরে থাকা দেশটির নাম নরওয়ে। আর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বঘোষিত ‘বিশ্বগুরু’ ভক্তকুলের ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী। এরপর বোধ হয় ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে না কেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র’ ভারত ১৫৭তম স্থানে থাকে। কেনই বা মোদী জমানায় ভারতের স্থান ২০১৫ সালের ১৩৬তম থেকে ২০২৬ সালে ১৫৭তম স্থানে নেমে গেছে।
মোদী সরকার ঘোষিত ভারতের ‘প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে’ দেশের নির্বাচিত প্রধান প্রশ্নের উর্ধ্বে। তাঁকে কোনও সাংবাদিক প্রশ্ন করতে পারেন না। তিনি নিজে যখন যা খুশি বলবেন। সংবাদমাধ্যমকে সেটাই প্রচার করতে হবে। তাঁর প্রায় ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তিনি কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি, সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। বস্তুত তাঁকে প্রশ্ন করার সুযোগই দেওয়া হয় না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজের সম্পর্কে অতিরঞ্জিত গালগল্প প্রচার করার জন্য নিজের ঘনিষ্ট কোনও সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন। অবশ্য সেই সাক্ষাৎকারে কি প্রশ্ন করা হবে সেটাও তিনি নিজেই ঠিক করে দেন। সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকের নিজের মতো করে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা নেই। এমনই এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে সাধারণ মনুষ্য প্রজাতি থেকে স্বতন্ত্র বলে দাবি করেছিলেন। বলেছিলেন তাঁর জন্ম আর পাঁচটা মানুষের মতো পিতা-মাতার মিলনের মাধ্যমে হয়নি। ভগবান বিষ্ণু তাঁকে নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছেন। স্বাভাবিক মানুষের মতো তাঁর মৃত্যুও হবে না। কাজ শেষ হয়ে গেলে সেই বিষ্ণুই তাঁকে তুলে নিয়ে যাবেন।
এহেন এক রাষ্ট্রনেতার শাসনে মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে সেটা ভাবাটাই বোকামি। ভারতে এখন মূল ধারার প্রায় সব টিভি চ্যানেলে বা সংবাদপত্র বন্ধ করার এবং নানাভাবে বেকায়দায় ফেলার ভয় দেখিয়ে বাকিদেরও জো হুজুর করা হয়েছে। এরপরও যারা নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠার পক্ষে দাঁড়াতে চেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ইডি, আয়কর হানা দিয়ে কোমর ভেঙে দেবার ব্যবস্থা হয়েছে। তাছাড়া নাছোড় সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বছরের পর বছর বিনাবিচারে জেলবন্দি করা হয়েছে।
এহেন প্রধানমন্ত্রী অতীতের যে কোনও প্রধানমন্ত্রীকে শত যোজন পেছনে ফেলে বিদেশ ভ্রমণে নজিরবিহীন রেকর্ড করেছেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই তিনি ভ্রমণ করেছেন। কোনও কোনও দেশে পাঁচ-দশবারও গেছেন। কিন্তু কোনও দেশে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। দেননি কোনও প্রশ্নের উত্তর। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন আন্তর্জাতিক রীতি। সব দেশের সব রাষ্ট্রপ্রধানরা বরাবর এটা মেনে চলেন। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরাও মানতেন। একমাত্র ব্যতিক্রম মোদী। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে এর পেছনে রহস্য কি। তিনি কি অজানা প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম? নাকি প্রশ্ন বুঝতে অসুবিধা হয়। নিজের মনগড়া কথা যিনি অনর্গল বলতে পারেন অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিতে তার এত ভয় কেন? তবে কি তাঁর অনেক কিছু লুকোবার আছে? সেই সব বিষয়ে যদি সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে ফেলে তাহলে তিনি ফেঁসে যাবেন বলে ভয় পান?
Modi and Press Freedom
বিশ্বগুরুর এত ভয় কিসের
×
Comments :0