Supreme Court Umar Khalid

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মিলল উমর খালিদের জামিনের সম্ভাবনা

জাতীয়

কড়া আইন ইউএপিএ-তে আটক অভিযুক্তেরও জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। বিনা বিচারে আটক সমাজকর্মী উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের হামিনের আবেদন নাকচের রায়ে ত্রুটি রয়েছে।
সোমবার ইউএপিএ-তে আটকের জামিন সংক্রান্ত অন্য একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়াঁ এবং বিভি নাগরত্নের বেঞ্চ। 
চলতি বছর জানুয়ারিতেই সুপ্রিম কোর্টের অপর একটি বেঞ্চ উমর খালিদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। ইউএপিএ আইনে আটককে জামিন খারিজের যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়। 
এদিন বিচারপতি ভুইঞাঁ ও নাগরত্নের বেঞ্চ জানিয়ে দেয় যে সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ আরও আগে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে জামিনই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম ইউএপিএ আইনে আটক করা হয়েছে বলে সেই নির্দেশকে অমান্য করার সুযোগ নেই। বিচারপতি ভুইয়াঁ তাঁর রায়দানের সময় উল্লেখ করেন যে, কেএ নাজিব মামলায় তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছিল যে, ইউএপিএ-র ধারা ৪৩ডি (৫)-এর কঠোরতা থাকা সত্ত্বেও বিনা বিচারে দীর্ঘ কারাবাস জামিন মঞ্জুর করার একটি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 
এদিন যে মামলার শুনানি হয়েছে তাতে এনআইএ’র হাতে আটক জম্মু ও কাশ্মীরের সৈয়দ ইফতিকর আন্দ্রাবির জামিনের আবেদনের শুনানি চলছিল। অভিযুক্তকে মাদক পাচার রোধ এবং ইউএপিএ আইনে ২০২০-তে আটক করে এনআইএ। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, মাদক পাচারের অর্থ দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের পুষ্ট করা হচ্ছে। এই চক্রে জড়িত আন্দ্রাবি। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট এবং এনআইএ আদালতে এর আগে অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ হয় ইউএপিএ আইন থাকার যুক্তিতে।   
এই প্রসঙ্গেই বিচারপতিরা দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদের প্রসঙ্গ ওঠে। দু’জনকে কড়া আইনে আটক করা হলেও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। অথচ জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়ে চলেছে। 
দিল্লি দাঙ্গার তদন্ত প্রক্রিয়াতেই বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারকে ছাড় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কারণ বিজেপি’র যে নেতারা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি।  
২০২১ সালে কেন্দ্র বনাম কেএ নাজিব মামলায় তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় দিয়েছিল বিনা বিচারে বন্দি রাখার বিপক্ষেই। এদিন বিচারপতিরা বলেছেন যে সেই নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়নি জামিন খারিজের ক্ষেত্রে।  সৈয়দ ইফতিখার আন্দ্রাবি ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। অথচ তাঁর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না।

Comments :0

Login to leave a comment