East Bengal VS Panjab

ইস্টবেঙ্গলের জয়ের পথে বাধা বারপোস্ট, মূল্যবান এক পয়েন্ট পেলাম, বললেন অস্কার

খেলা

ইস্টবেঙ্গল-০, পাঞ্জাব-০

১১ মে-‘সর্বস্ব হারাতে হলেও স্বপ্নের উপর বিশ্বাস রাখো, অমরত্বের পথে আর মাত্র তিনটি ম্যাচের দূরে!’  দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যানার নামিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে বার্তা দিয়েছিল সমর্থকরা। স্বপ্ন বাঁচাতে ইস্টবেঙ্গলের তাগিদের কমতি ছিল না, গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল নিশ্চিত তিনটি গোল বাঁচিয়ে দলকে ম্যাচে রাখলেন। অথচ লাল হলুদের জয়ের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ালো বারপোস্ট। 
ম্যাচের ৭০ মিনিটে মিগুয়েলের বা-পায়ের শট বারে লেগে প্রতিহত হলো। আরেকবার ৯০ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে রশিদের নেওয়া দূরপাল্লার শট ফের ক্রসবারে লাগল! শেষ মিনিটে নন্দ’র গোলমুখী শট বাধা পাওয়ার পর, বক্সে বল পেয়ে যান মিগুয়েল, তিনি বাঁ-পায়ে হিল, ফের বার ছুঁইয়ে বেরিয়ে গেল। ম্যাচের সবচেয়ে সহজতম সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার হতাশায় মাথায় হাত দাঁড়িয়ে পড়লেন মিগুয়েল, ডাগআউটে বসে থাকা ইউসেফেরও মাথায় হাত! অস্কার ব্রুজোর চোখে অবিশ্বাস! ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠল,সোমবার ঘরের মাঠে পাঞ্জাব এফ সি’র বিরুদ্ধে ০-০ ড্র করে লিগটা মাঠে ফেলে এল ইস্টবেঙ্গল? 
কারণ, আজ মোহনবাগান জিতলেই ইস্টবেঙ্গলকে টপকে শীর্ষে চলে যাবে। দুই পয়েন্টের ব্যবধান বাড়িয়ে নেবে বাগান। তখন, ইস্টবেঙ্গলের সামনে একটাই রাস্তা, বাকি দুটো ম্যাচ জেতা। বড় ম্যাচের পর, ইন্টার কাশীকেও হারাতে হবে, আইএসএল জিততে হলে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে অস্কার বললেন, ‘পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আমরা মূল্যবান এক পয়েন্ট পেলাম। লিগ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে ডার্বি সহ, ইন্টার কাশী ম্যাচ জিততে হবে আমাদের।’ তবে ম্যাচের শুরুতেই অঘটন। কাফ মাসলে ব্যথা থাকায় পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি সাউল ক্রেসপো। পুরো ম্যাচেই তাঁর অভাবটা বোঝা গেল, বিশেষত বিরতির পর, সাউল মাঝমাঠে থাকলে পুরোটা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করে বিপক্ষের রক্ষণে আরও চাপ বাড়াতে পারত ইস্টবেঙ্গল। সাউলের চোট থাকায় ডার্বিতে তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হলো। লাল হলুদের ফিটনেস ট্রেনার জাভি বলে গেলেন, ‘এখনই বলতে পারছি না, সাউল কী অবস্থায় আছে, মঙ্গলবার দেখলে বোঝা যাবে, ডার্বির আগে সময় আছে, আশা করছি সুস্থ হয়ে যাবে বড় ম্যাচের আগে।’ ম্যাচের শেষ দিকে পেশি শক্ত হওয়ার সমস্যা নিয়ে বেরিয়ে যান আনোয়ার। তাঁর সম্পর্কে অস্কার বলেন, ‘আনোয়ারকেও নজরে রাখবো আমরা।’
রবিবার, অস্কার ব্রুজো জানিয়েছিলেন, এই আই এস এলে কঠিনতম ম্যাচ হতে চলেছে পাঞ্জাব এফসি। তাঁর অনুমান একেবারেই ভুল ছিল না। লিগে সবচেয়ে বেশি ২৭ গোল করা দল, পাঞ্জাবের গোলমুখ খুলতে পারল না। গোল লক্ষ্য করে শট মাত্র তিনটে। মোহনবাগান ম্যাচের আগে, এই ধাক্কার প্রয়োজন ছিল অস্কার ব্রিগেডের। 
এদিন খেলা শুরুর আগে ক্রেসপোর ছিটকে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই অস্কারকে পরিকল্পনায় বদল আনতে হয়। সাউলের পরিবর্তে রশিদের পাশে খেললেন সৌভিক। কিন্তু মাঠে রইলেন মাত্র ২১ মিনিট। ১৫ মিনিটে তিনি হলুদ কার্ড দেখায় তাঁকে তুলে জিকসনকে নামান অস্কার। পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোটা ম্যাচ ভালো খেললেন জিকসন, রশিদের থেকে খুব একটা সাপোর্ট পেলেন না তিনি, একটা শট বাদ দিলে, রশিদ পুরো ম্যাচেই অফকালার। মাঝমাঠে একাধিক বল লুজ করলেন তিনি, যেখান থেকে প্রতি আক্রমণ করার সুযোগ পেয়ে যায় পাঞ্জাব। যদিও বিপদ হয়নি। 
পাঞ্জাব কোচ মিগুয়েলকে জোনাল মার্কিংয়ে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি পাঞ্জাবের দুই সাইড ব্যাক আটকে রাখলেন দুই প্রান্ত। বাম প্রান্ত ধরে বিষ্ণু ও বিপিন দৌড়াতে না পারায় প্রথমার্ধে স্বমহিমায় পাওয়া যায়নি ইস্টবেঙ্গলকে। যে কারণে এই ম্যাচে বিপিনকে ফলস নাইনের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেল, তাতে দল অবশ্য উপকৃত হয়নি। 
পাঞ্জাব মিড ব্লক করে রাখায় সাপ্লাই পাননি দশ গোল করা ইউসেফ। প্রথম ৪৫ মিনিটে, বলার মত একটাই সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল ইস্টবেঙ্গল, মিগুয়েলের ঠিকানা লেখা থ্রু পেয়ে যান বিপিন। কিন্তু পাঞ্জাবের গোলকিপার কোণ ছোট করে এগিয়ে এসে বিপিনের প্লেসমেন্ট সহজেই বাঁচিয়ে দেন অর্শদীপ সিং। যদিও ম্যাচের ছয় মিনিটে পাঞ্জাবের রামিরেজের শট বারে লেগে প্রতিহত না হলে, এগিয়ে যেতে পারত তারা। 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শানাতে শুরু করে পাঞ্জাব। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া সেভ করে দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন গিল। ৫৩ মিনিটে লুং ডিমের ক্রস, শামির হেড বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন গিল। ৫৮ মিনিটে জেলকোভিচের গোলমুখী শট বাঁচিয়ে দেন তিনি। পাঞ্জাবের কোচ অবধি স্বীকার করে নিলেন, ‘গিলের জন্য আমরা জিততে পারলাম না।’এরপর পরপর তিনটি পরিবর্তন করেন অস্কার। তাতে ওডিশা, মুম্বাই ম্যাচের মতো ফলাফলে বদল আসেননি। বারপোস্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে হয়তো, খেতাবের আরও কাছে পৌঁছে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। 
ইস্টবেঙ্গল: গিল, লাল, আনোয়ার(জয়), কেভিন, রাকিপ, সৌভিক(জিকসন), রশিদ, মিগুয়েল, বিপিন, বিষ্ণু(নন্দ), ইউসেফ(সোবার্গ)

Comments :0

Login to leave a comment