Supreme Court

তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিতর্ক: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা জানাতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

জাতীয় রাজ্য

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়া ঘাসফুলপ্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হবে, তা জানাতে নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা নির্ধারণের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। বিষয়টি নিয়ে মমতা ব্যানার্জির দায়ের করা আবেদনের পরবর্তী শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর ধার্য হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ডি এস নাইডু। কমিশন কবে নাগাদ তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, সেই সময়সীমা আদালতকে জানাতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজবা ব্যবহারে স্থগিতাদেশ দেওয়ার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসনাম ও জোড়া ঘাসফুলপ্রতীক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

শুনানিতে মমতা ব্যানার্জির হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বাল। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার সময় কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার কার্যত কোনও সুযোগ থাকছে না। তবে ৬ অক্টোবরের বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে যাওয়ায় ওই নির্বাচন স্থগিত করার আবেদন তিনি করছেন না বলেও জানান সিবাল।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথের কথা বলেন। তার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে যাতে তারা দ্রুত শুনানি শুরু করে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে দুই পক্ষের প্রমাণ ও নথি গ্রহণ করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর মমতা ব্যানার্জির আবেদনের জরুরি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে সম্মতি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮-এর সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন। মমতা ব্যানার্জি এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠীর বক্তব্য শোনার পর কমিশন অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাব্য সময়সীমা আদালতের কাছে জানাতে হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর ফের মামলাটির শুনানি হবে।

 

Comments :0

Login to leave a comment