BJP workers hurled 'Anti National' rant at Hawkers in Kolkata

‘জেল ভরো’-র মিছিলে ‘দেশদ্রোহী’ দেখছে বিজেপি, হামলা রুখে রাস্তায় হকাররা

রাজ্য কলকাতা

হকের দাবি দিয়ে মিছিল করলে দেশদ্রোহী! এমনই অভিজ্ঞতা ‘জেল ভরো’-তে যোগ দেওয়া হকারদের।
দেশ জুড়ে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, শিল্প ভিত্তিক ফেডারেশন ও সংযুক্ত কিসান মোর্চার ডাকে জেল ভরো ও আইন অমান্য কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে কেন্দ্রীয় জমায়েতে আসছিলেন এই হকাররা। 
কলকাতার বড়বাজারের ক্যানিং স্ট্রিট থেকে স্ট্রিট হকারদের একটি মিছিল সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের জমায়েতে আসছিল। মিছিলের উপর আক্রমণ করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। হামলাবাজরা বলে, সিআইটিইউ করা যাবে না। তোমরা আসলে দেশদ্রোহী! গরম চোখকে হার মানিয়ে হকাররা এসেছেন জমায়েতে। আক্রান্ত হন ৭ হকার। হয়েছে সম্মিলিত প্রতিরোধও।
তাদেরই একজন, মহম্মদ ফারুক জনসভায় বলেন, ‘‘আমরা মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম। হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আমাদের এই মিছিল হকের কথাই বলেছি বিজেপি লাঠি দিয়ে মেরেছে আমাদের তাদের ফতোয়া সিআইটিইউ করা যাবে না আমরা নাকি দেশদ্রোহী।’’
সোমবার, ১০ আগস্ট, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই কর্মসূচি সকাল থেকেই চলে। কলকাতায় কেন্দ্রীয়ভাবে রানি রাসমণি পর্যন্ত মিছিল করে আইন অমান্য করার ডাক দেয় শ্রমিক কৃষক খেতমজুর বস্তি সংগঠন। 
রাজ্য সরকারের ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ দেখিয়ে রানি রাসমণি পর্যন্ত  মিছিলের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। বাধ্য হয়েই প্রথমে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সভা করেন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সভার পর জোর করেই হয় আইন অমান্যের মিছিল। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই এগিয়ে চলে মিছিল। নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে বলেন আমরা কোনও সহযোগিতা করার জন্য মিছিল করিনি। আমরা আইন অমান্য করতে এসেছি আপনারা প্রয়োজনে আমাদের গ্রেপ্তার করুন। 
মিছিলে পথ হেঁটেছেন কাশীপুর জেটি সংলগ্ন সেই জ্যোতি নগর কলোনির বস্তিবাসীরা। 
সংখ্যালঘু প্রধান এই এলাকায় পানীয় জল এবং রাস্তার আলো বন্ধ। ইতিমধ্যেই তাঁরা বিক্ষোভে নেমেছেন। বড় আন্দোলনের ডাকও দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি। 
এই জ্যোতি নগর কলোনির এলাকার মানুষেরা আশঙ্কা করছেন যে তাঁদের উচ্ছেদ করা হতে পারে। একদিকে স্থায়ী কাজ নেই, নেই মজুরির নিশ্চয়তা। অন্যদিকে মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা। এই দুইয়ের বিরুদ্ধেই এই জ্যোতি নগর কলোনি থেকে প্রায় চারশো বাসিন্দা এদিনের আইন অমান্যে অংশ নেন। তাঁদের দৃঢ় প্রত্যয়, মানুষ হিসেবে অধিকার আমাদেরও রয়েছে। প্রয়োজনে লড়াই করে অধিকার ছিনিয়ে নেব। 
কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিক কর্মচারী বস্তিবাসী মানুষরা উপস্থিত হচ্ছিলেন এই আইন অমান্য কর্মসূচিতে।

Comments :0

Login to leave a comment