শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মাস আর্টকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একটি দুর্নীতি সামনে এসেছে। তাতে ইন্দ্রনীল সেনের নাম জড়িয়েছে। গতকাল ইন্দ্রনীল সেন এবং তার ঘনিষ্টদের ১৫টি ঠিকানায় তল্লাসি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা।
এদিন সকাল ১০:৪৫ মিনিট নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। ইডি সূত্রে খবর শারদীয়ার টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে যেই দুর্নীতি হয়েছে সেই বিষয় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়ম ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের তদন্তে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কলকাতা, হুগলী সহ ১৫টি ঠিকানায় মঙ্গলবার একযোগে তল্লাশি চালালো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কসবা ও হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ি থেকে সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি, ইন্দ্রনীলের সংস্থার অফিস এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির বাড়িতেও অভিযান চলে।
ইডি সূত্রের দাবি, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘পুজো পরিক্রমা’র পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার বিরুদ্ধে। সেই টাকার উৎস, কোথায় খরচ হয়েছে, কারও কাছে পৌঁছেছে কি না এবং অন্যত্র বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না এই আর্থিক লেনদেনের সূত্রই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার সকালেই কসবার বাড়িতে পৌঁছান ইডি আধিকারিকরা। একই সময়ে শহরের একাধিক ঠিকানা ও সংস্থার অফিসেও তল্লাশি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সিঙ্গুরের ছুটিপুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এ পৌঁছায় ইডি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেখানে মাঝেমধ্যে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর জুনে। বৌবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিদেশিদের কাছে কলকাতার কয়েকটি দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করা হয়েছিল। সংস্থাটি ইউনেস্কোর ‘পার্টনার’ বলে দাবি করলেও সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পায়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সেই স্বীকৃতির নাম ব্যবহার করে পাস বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। এই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ এবং লেনদেনের গতিপথই এখন ইডির তদন্তের অন্যতম বিষয়।
Comments :0