পার্থ প্রতিম কোঙার
লাল ঝান্ডাকে যেন ছাড়িস না, বাপ-ঠাকুরদার সেই কথাগুলি যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে চাকুন্দি’র পার্থ বাগ। সকাল থেকে প্রার্থী গ্রামে প্রচারে আসবে তাই গ্রামকে লাল পতাকায় স্বযত্নে নিজের হাতে সাজিয়েছেন তিনি। এ গাঁয়ে নানাভাবে বিভাজনের রাজনীতি, প্রলোভন, হুমকি, সন্ত্রাসের পরও এখানকার আদিবাসী মানুষরা লাল ঝান্ডা ছাড়েননি।
বর্ধমান উত্তর বিধানসভার নবস্থা-১ অঞ্চলের আদিবাসী মহিলারা যেন তৈরি ছিল তাঁদের আপনজন সিপিআই(এম) প্রার্থীকে নিজেদের আঙ্গিকে বরন করবেন বলে। ধামসা, মাদলের তালে আদিবাসী নৃত্যের মাধ্যমে সিপিআই(এম) প্রার্থী মামনি মন্ডল রায় কে বরণ করে নিয়ে নাচলেন, গান গাইলেন তাঁরা। শোনালেন তাঁদের জীবন যন্ত্রনার কথাও।
এদিন প্রচারে পথ চলার মাঝেই এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাবার সময় কথা প্রসঙ্গে উদয় মাজিল্যা জানিয়েছেন যে মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া চোখে পড়ছে তা দেখে বুঝতেই পারছেন তৃণমূল-বিজেপি’র সেটিং রাজনীতির কারনে মানুষ বড় কষ্টে, যন্ত্রনায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষক, খেতমজুর, গাঁয়ে অসংগঠিত শ্রমজীবী মানুষ কেউ যে ভাল নেই সেকথাও অকপটে বললেন তিনি। ধান,আলু কিনবেন এমন ঘোষনা করেছিল মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু বর্ধমান উত্তর বিধানসভার নবস্থা-১ অঞ্চলের শালিগ্রাম, চাকুন্দির চাষীরা বলেছেন ধান সহায়ক মূল্যে বিক্রি করতে পারেননি তাঁরা, এমনকি আলুও না। মুখ্যমন্ত্রীর কথা বিশ্বাস করে তাঁরা আলু ধরে রেখেছিলেন সেই আলু মাঠেই পচে গেছে। মিথ্যাবাদীর সরকার, ওয়াকফ আইন লাগু হবে না ঘোষনা করেও মুখ্যমন্ত্রী পরে তা মেনে নেয়। আবার এসআইআর মানবো না বলে সেটাও বোঝাপড়া করে সংখ্যালঘু, গরিব মানুষকে বিপদে ফেলেছেন তিনি। পুরো সরকারটাই চলছে মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে। ধানও বেঁচতে পারেননি কৃষক, পেট ভরেছে ফড়েদের।
গরিব খেতমজুর সুভাষ সিং বলেছেন, এখানকার গরিব পাড়াতে একটাই দাবী কাজ চাই, শুধু ভাতা নয়। কাজ নেই, ১০০ দিনের কাজ গত ৪ বছর ধরে বন্ধ। কাজের সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে ছুটতে হচ্ছে সেখানেও আক্রমনের মুখে পড়ে অনেকেই জীবন বলি দিয়েছেন। গ্রামের চিত্র যেন একই, সে আলাদা থানা, জেলা, যাই হোক। গোটা গ্রামে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।
নিতাই যশ বলেছেন, দুয়ারে সরকারের পাড়ায় সমাধানে যে কাজ হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। তাই মানুষ আওয়াজ তুলেছেন উন্নয়নের নামে দুর্নীতি, স্বজনপোষন বন্ধ করো। বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বড়শুল এলাকায় দামোদরের বালির রাজ্যজুড়ে খ্যাতি আছে। সেই বালির ঘাটের মাফিয়ারা এখন তৃণমূলের নেতা। বালির তোলা আদায়কে কেন্দ্র করে শাসকদলের নিজেদের মধ্যে বিরোধ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও ভোটের সময় এককাট্টা হয়ে এই দুষ্কৃতিরাজ টিকিয়ে রাখতে মরিয়া ওরা। এখানকার তৃণমূলের বিধায়কের বিরুদ্ধে চাকরি বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন এলাকার মানুষ। তাছাড়া পূর্ব বর্ধমানের আর পাঁচটা গ্রামের মতো এখানেও কাজের হাহাকার, সেই গরিবের সুযোগ নিয়ে মাইক্রোফিনান্স জোকের মতো তাঁদের রক্ত শোষন করছে। গ্রাম আলাদা কিন্তু শোষনের চিত্র এক। বামফ্রন্টের সময়ে গ্রামে গ্রামে যে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলো গড়ে উঠে ছিল সেগুলো সবই উঠে গেছে ১৫ বছরে। তার জায়গা নিয়ে মাইক্রোফিনান্স। এই নব্য সুদখোররা শাসকদলের মদতেই মহিলাদের উপর নির্যাতন, চাপ তৈরি করে গ্রামের শান্তি নষ্ট করছে।
প্রণব দাঁ বলেছেন,মানুষ কার্যত অতিষ্ঠ হয়ে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, পঞ্চায়েত গড়তে যেন সোচ্চার। শাসকদল বুঝে গেছে ওদের দিন শেষ তাই গাঙ্গুয়া গ্রামে ড্রেনের মাটিও বিক্রি করে দিচ্ছে। এবার প্রচারে লক্ষ্য করা গেছে লাল ঝান্ডার বিরোধী পরিবারও চাইছে একটা পরিবর্তন আসুক সেটা লাল ঝান্ডার হাত ধরেই। মানুষ প্রচারে মুখ খুলছেন বলেছেন অনেক হয়েছে আর নয় এবার এই চোরগুলো জিতলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত একেবারেই অন্ধকারে ডুবে যাবে।
Comments :0