Child Care Unit

‘চাইল্ড কেয়ার ইউনিট’ গড়ার নাম টাকা আত্মসাৎ, অভিযুক্ত উদয়নের সংস্থা

জেলা

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর তার দপ্তরের উন্নয়নের কাজের ব্যাপক দুর্নীতির হরেক ঘটনা সামনে আসার মধ্যেই এবারে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের "চাইল্ড কেয়ার ইউনিট" গড়ার নামে কয়েক কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ এর অভিযোগ ঘুরছে লোকের মুখে মুখে! এর জন্য রাতারাতি দিনহাটা শিশু মঙ্গল সমিতি নামে সংস্থাও গড়েছিলেন। সংস্থার নামে রসিদ ছাপিয়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকা! ওই সংস্থার সম্পাদক ছিলেন উদয়ন গুহ নিজেই।
টাকা আদায়ের জন্য টার্গেট করা হয়েছিল শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক এবং ব্যবসায়ীদের। সংস্থার নামে প্যাড ছাপিয়ে সম্পাদক হিসেবে উদয়ন গুহ নিজে চিঠি করে দিনহাটার মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ন স্মৃতি সদনে ২০২১ সালের ২৭ শে জুন শিক্ষকদের সভা করে চাঁদা দিতে বলেন। একই রকম সভা হয় অধ্যাপক, চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে।রীতিমত ছক করেই অতিমারির সময়ে মানুষের বিপন্নতা ভুলে টাকা তুলে গেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ভোটের ফল ঘোষনার দিনই গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরায় দিনহাটা শহর ছেড়েছেন। এরপর গত ৫ সপ্তাহের মধ্যে তাকে মমতা ব্যানার্জীর বাড়িতে মাত্র দুবার দেখা গেছে! দিনহাটায় আদৌ ফিরবেন কবে কেউ জানে না!
উদয়ন গুহ মন্ত্রী ও দিনহাটার বিধায়ক হবার সুবাদে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির চেয়ারম্যান পদেও ছিলেন। আর ওই পদে থাকার সুবাদেই করোনা কালে সিদ্ধান্ত নেন মহকুমা হাসপাতালে গড়া হবে "চাইল্ড কেয়ার ইউনিট"। যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ। স্বাস্থ্যভবনের কোন অনুমতি বা বরাদ্দ ছাড়াই শুরু হয় চাঁদা তোলা! আর চাঁদার পরিমান ১০০/২০০ টাকা নয়, ৫/১০ হাজার এমন কি কোন কোন ব্যবসায়ী এক, দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছে ওই তহবিলে! সব মিলিয়ে ২৫/২৬ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে! অথচ দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের চাইল্ড কেয়ার ইউনিটে গেলে যে কেউ দেখতে পাবেন, এই ইউনিটি সাকুল্যে ৮ টি বেড রয়েছে। ৮ টি মনিটর, চারটি ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, অক্সিজেনের পাইপ লাইন বসানো হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে এইটুকু কাজের জন্য কত খরচ হতে পারে! বাকি টাকাই বা কোথায় গেল? স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া সরকারী হাসপাতালের ভেতরে এরকম কাজ করা যায় কি? এসব প্রশ্নের উত্তর যার দেবার কথা সেই একদা দাপুটে উদয়ন গুহ-র মোবাইলের এখন সুইচ অফ!

দিনহাটার সিপিআই(এম) নেতা শুভ্রালোক দাস বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রীর সরকারি কাজের জন্যও চাঁদা তোলার ঘটনা এটাই একমাত্র নয়। ওনার পরামর্শেই তৃণমূল পরিচালিত দিনহাটা পৌরসভা " হাউস ফর অল"প্রকল্পের উপভোক্তাদের থেকে বেআইনী ভাবে উপভোক্তা পিছু ২০ হাজার টাকা চাঁদা তুলেছে। অডিট রিপোর্টে এই পদ্ধতিকে বেআইনী বলে উপভোক্তাদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিলেও সেই টাকা ফেরানো হয় নি। আমরা চাই দিনহাটার সব চাইতে বড় তোলাবাজ উদয়ন গুহকে হাসপাতালের চাইল্ড কেয়ার ইউনিট গড়ার নামে কোটি কোটি টাকা তোলার অপরাধে "আইনের আওতায়"নেওয়া হোক। ছাড় দেওয়া, চলবে না সমিতির অন্য সদস্যদেরও। 
 

Comments :0

Login to leave a comment