রাজ্য জুড়ে চলা হকার উচ্ছেদ অভিযানের খাঁড়া এবার নামল ধূপগুড়ি শহরেও। ফুটপাত দখলমুক্ত করার নামে মহকুমা শাসকের নির্দেশে শুক্রবার ধূপগুড়ি পৌরসভা ও পুলিশ যৌথ ভাবে শহরের বিভিন্ন দোকানে উচ্ছেদের কড়া নোটিশ জারি করল। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফুটপাত খালি না করলে প্রশাসনের তরফে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর প্রশাসনের এই হঠাৎ নির্দেশে এক লহমায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন শহরের বহু ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী।
ধূপগুড়ি পৌরসভার তরফে পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে শহরের ব্যস্ততম এলাকা গুলিতে একযোগে এই নোটিশ বিলির অভিযান চালানো হয়। এদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি দোকানে নোটিশ ধরানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ব্যবসায়ীরা দোকান সাজাতে গিয়ে ফুটপাতের ওপর সামগ্রী রাখছেন এবং অনেকে টেবিল পেতে ব্যবসা করছেন, যার ফলে যানজট তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।
পৌরসভার পক্ষে নোটিশ বিলির দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক জানান, ‘‘আমরা মহকুমা শাসকের নির্দেশে প্রায় ৬০টি দোকানে নোটিশ দিয়েছি। ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
প্রশাসনের এই আকস্মিক তৎপরতা নিয়ে ধূপগুড়ির ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একাধিক দোকান মালিকের অভিযোগ, প্রশাসনের এই অভিযানের কোনও ধারাবাহিকতা নেই। এর আগেও একাধিকবার এসে মুখে সতর্ক করে যাওয়া হয়েছিল। দু-চারদিন পরিস্থিতি ঠিক থাকার পর আবার আগের মতোই চলেছে। কোনও স্থায়ী পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে হঠাৎ নোটিশ ঝোলানোয় ক্ষুব্ধ ছোট ব্যবসায়ীরা।
উৎসবের মরশুম হোক বা সাধারণ দিন ফুটপাতের ওপর ভর করেই ধূপগুড়ির বহু প্রান্তিক পরিবার সংসার চালায়। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করে এই উচ্ছেদ নোটিশ আসায় স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। কীভাবে আগামী দিনে সংসার চলবে, তা নিয়ে গভীর আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা।
প্রশাসনের এই অমানবিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্থানীয় ফুটপাত ব্যবসায়ী সুধীর রায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ গলায় বলেন, ‘‘আগের সরকার চোর ছিল ঠিকই, কিন্তু কখনও গরিব মানুষের পেটে ভাতে মারেনি। এই সরকার আসতেই গরিবের রুটিরুজির ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে।’’
এই অমানবিক উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছে সিপিআই(এম)। ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ‘‘যানজট সমস্যা সমাধান বা শহরের সৌন্দর্যায়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে গরিব মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নিতে হবে। নতুন ডবল ইঞ্জিনের সরকারও পুরনো সরকারের মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ, অন্যদিকে যারা ছোট ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের সংসার চালাচ্ছেন, তাদের উচ্ছেদ করে আরও বেশি অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘হকারদের পুনর্বাসন না দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ করা অগণতান্ত্রিক। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প ব্যবস্থা বা ভেন্ডিং জোন তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষের রুটিরুজি নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা সিপিআই(এম) বরদাস্ত করবে না। আমরা ধূপগুড়ির হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের পাশে আছি এবং প্রশাসনের এই অমানবিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।’’
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক হকারদের বিকল্প রুটিরুজির ব্যবস্থা না করে এই ধরণের একতরফা উচ্ছেদ কেবল সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকটকেই আরও বাড়িয়ে তুলবে।প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আগামী দিনে ধূপগুড়িতে হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Hawker Eviction
হকার উচ্ছেদের নোটিশে তীব্র চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে
×
Comments :0