এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের সামনে অবশেষে নতিস্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি পদত্যাগ করার পরেই দিল্লির যন্তর মন্তরের পাশাপাশি একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীরা উৎসবের মেজাজে মেতে ওঠেন । সেইসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে চলেছে, তাকে নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রী সব এফআইআর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা সংস্কারে পাঁচটি দাবিও বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশ্বাস না মিটলে আন্দোলন জোরালো হতে পারে ফের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই প্রতিবাদী নবীন প্রজন্ম সেই ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর আসতেই যন্তরমন্তরে আন্দোলনকারীরা একে অপরকে জড়িয়ে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। সেইসঙ্গে, ' চাক দে, ইন্ডিয়া ' গানে মঞ্চ থেকেই নাচে মেতে উঠতে দেখা যায় তাঁদের।
এদিনই ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দিপকে বলেন, "আপনারা যদি আমাদের 'আরশোলা' না বলতেন, তবে আমি ভারতে ফিরে আসতাম না। আপনারা যদি আমাদের 'আরশোলা' না বলতেন, তবে দেশের যুবসমাজ রাস্তায় নেমে আসত না। আপনারা যদি আমাদের 'আরশোলা' না বলতেন, তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাও ঘটত না।"
পাশাপাশি, নাগপুরের সংবিধান চত্বরেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। লাউডস্পিকারে গান বাজানোর পাশাপাশি শত শত আন্দোলনকারীরা নাচ-গান ও জয়ধ্বনি দিতে দেখা যায়। সেইসঙ্গে, সাধারণ মানুষকে মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা যায়। পাশাপাশি, এদিনই সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে এসএফআই, এআইএসএফ, এআইডিএসও, ডিওয়াইএফআই -সহ বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল। ওই সমাবেশে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অংশ নেন।
সেইসঙ্গে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকা মধ্য দিল্লির ১৮টি মেট্রো স্টেশনই শনিবার পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) তাদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেই ‘এক্স’ পোস্ট করে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন জানিয়েছে যে, এখন সব মেট্রো স্টেশনই খোলা রয়েছে। যাত্রীরা সেখানে আগেরমতোই স্বাভাবিকভাবেই ফের প্রবেশ ও বের হতে পারেন।
অপরদিকে, বর্তমানে যে প্রশ্নটি এখন যন্তর মন্তর, রাজনৈতিক মহল সহ আন্দোলনের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যেও যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো এরপর কী? একটি ‘জেন-জি’আন্দোলন যে প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পদত্যাগে বাধ্য করতে পারে—তা প্রমাণ করার পর, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি এমন এক বৃহত্তর মঞ্চে রূপান্তরিত হবে যা চাকরি, সুযোগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমবর্ধমান দুশ্চিন্তায় থাকা এক প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করবে?
তবে অনেকেই মনে করছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কেবল একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো প্রচারণায় জয়ী হয়নি। তারা আবিষ্কার করেছে যে, তারা একটি প্রজন্মকে সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম। এখনকার চ্যালেঞ্জ হলো—এই প্রজন্মকে পরবর্তী কোন লক্ষ্যের জন্য লড়াইয়ে নামানো উচিত, তা ঠিক করা।
CJP Movement
দেশজুড়ে জয়ের আবেশে প্রতিবাদীরা, আশ্বাস না রাখলে চলবে আন্দোলন
বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে প্রতিবাদীরা।
×
Comments :0