বামফ্রন্ট সরকার সমাজের সমস্ত পিছিয়ে থাকা অংশের মানুষদের এগিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে ক্ষমতায়নের মধ্যে দিয়ে। সেই মনোভাবেই বামফ্রন্ট বামপন্থীরা চলেছে। তৃণমূল এসে ভাগাভাগি করে এক অংশের ভোট নেবার জন্য বেঠিক কাজ করেছে। বিজেপি এসে সেই অংশকে দুমড়ে দিয়েছে মেজোরিটি অংশের ভোট পাবার জন্য। ভোট পাবার জন্য মানুষকে এভাবে দাগিয়ে দেওয়া বা বিপর্যস্ত করা তৃণমূল অথবা বিজেপি’র কাজ। আর এই মানুষকে রক্ষা করতে পারে মানুষই। দেশের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন সহ সমস্ত বিষয়গুলিতে দেশ সর্বনাশের পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সারা ভারতবর্ষে বিজেপি’র বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট করতে হবে। এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সোমবার দুপুরে শিলিগুড়িতে হিলকার্ট রোড অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বেঠকে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, গোটা ভারতবর্ষে কার্যত সবাই বুঝেছেন বিজেপি’র বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হতে হবে। মানুষ ও মানুষের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ও সংবিধান রক্ষা করতে। ফাসিস্ত মনোভাব নিয়ে চলছে বিজেপি। পশ্চিমবাংলায় বিজেপি’র কোন জায়গাই ছিলো না। জ্যোতিবাবু বলেছিলেন ‘অসভ্য বর্বরের দল’। খাল কেটে কুমীর আনার মতো সেই দলকে নিয়ে এসে প্রশ্রয় দিয়েছে তৃণমূল। আর তৃণমূল বলতে এখন আর কিছুই নেই। পশ্চিমবাংলায় বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমগ্র অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বাম ছাড়া কোনই বিকল্প নেই।
চক্রবর্তী বলেন, কম বয়সী ছেলেমেয়েরা জেন জি ইত্যাদি ওরা বুঝতে পারছে। ওরা প্রতিবাদী। অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে জানে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তাকালে দেখা যাবে। সেই কারণেই তৃণমূল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট করার সাহস দেখায়নি। আর বিজেপি বাহিনী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা করে চলেছে। অজস্র ছেলেমেয়েরা বলছে বাম আমল আমরা দেখিনি। খারাপ খারাপ বলা হয়েছে। তৃণমূলের আমলে সর্বনাশ আমরা দেখেছি। আর বিজেপি’র এই কয়েকমাসে বুঝতে পারছি এরা আরও বিপজ্জনক। ফলে কম বয়সী ছেলেমেয়েরা তৃণমূল আর বিজেপি দেখে বিলাপ করছেন। দুঃখ প্রকাশ করছেন। কোথাও রুখে দাঁড়ানো উচিৎ বলে মনে করছেন। আমাদের কাজ তাদের কাছে পৌঁছানো। সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির প্রবীন নেতা জীবেশ সরকার।
চক্রবর্তী দাবি করে বলেন, শুভেন্দুবাবু রোজই নতুন কথা বলছেন। যা বলছেন উল্টো করছেন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মেয়র ববি হাকিমের সই। ব্যবস্থা করে নেব। পরে অনুগত হয়ে গেলো। এখন আবার বলছেন গো মাতা রক্ষা করবেন। গো মাতা রক্ষা তো আছেই। গোরুর মাংসের ব্যবসা যারা করেন তারা বিজেপি’র নির্বাচনে টাকা দেন এবং বিজেপি’র নিজস্ব লোক ভাতরবর্ষে ব্যবসা করেন তা কিছু জানা আছে শুভেন্দু বাবুর। সেগুলো পারলে রক্ষা করুন। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, আমাদের রাজ্যের রাজনীতিতে দলবদল ও নীতি নৈতিকতার সর্বনাশ করা মমতা ব্যানার্জি যেভাবে করেছেন আজও তা বহাল রয়েছে। তৃণমূলের কোনই ভালো কালো নেই। এরাজ্যের মানুষের নীতি নৈতিকতার গোড়ায় আঘাত দিয়েছে তৃণমূল। লুঠের রাজনীতি করেছে। দল ভাঙিয়েছে। সব ভাঙিয়ে সেই তৃণমূল বাহিনীকে দিয়ে পশ্চিমবাংলায় বিজেপি সরকার তৈরী করে দিয়েছে তৃণমূল।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তার কাজের মধ্যে থাকুন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, চাকরি, মানুষের শান্তি সম্প্রীতি রক্ষা করা তার কাজ। যেগুলো কিছুই হচ্ছেনা। কে কি খাবেন, কি পড়বেন, কে কোন বই লাইব্রেরিতে রাখবেন এগুলো মুখ্যমন্ত্রীর কাজ নয়। শুভেন্দু অধিকারী মমতা ব্যনার্জিকে ফলো করে কোথায় স্টল হলে আর কোথায় হবে না তা ঠিক করতে শুরু করেন তাহলে এটা অনধিকার চর্চা। আমরা বড়তি বা কমতি কিছুই করব না। আমরা বরাবর মার্কসীয় সাহিত্য বিক্রয় কেন্দ্র বা প্রগতিশীল পুস্তক কেন্দ্র লিখি তাই লিখব। এতোটা অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা না করে সরকার তার কাজের মধ্যে থাকুন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চক্রবর্তী বলেন, বাংলার ‘ব’ জানে না যারা, তারা বাংলার সমাজ সংষ্কৃতি সভ্যতা ধ্বংস করার মনোভাব নিয়ে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী ভোট জেতার জন্য যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আজকে ঠিক তার উল্টো কাজ করছেন।
এসআইআরে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হলো অ্যাডজুডিকেটেড লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সহ নানা অনুহাতে। তাতে নির্বাচন কমিশনের মধ্যেই প্রশ্ন উঠে গেছে। সেই ভোটারদের বাদ দিয়ে যদি কোন নির্বাচন হয় তাহলে সেই নির্বাচন কি কখনও বৈধ হতে পারে এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সুজন চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা ভয়ঙ্করভাবে বিপন্ন। প্রাইমারি স্কুলে হয় শ্যামপ্রসাদ করতে হবে, নাহলে মোদীর নামে জয়গান গাও। স্কুলের লেখাপড়া বারোটা বেজে গেছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও তাই মাস্টারমশাই নেই। শূন্যপদ পড়ে রয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির সেমিস্টার পরীক্ষায় তিনবার রুটিন, অ্যাডমিট কার্ড বদল। রাজ্যের সরকার ও শাসকের কাছে শিক্ষাটা বিবর্ন। শিক্ষার থেকে কতটা দূরে থাকা যায়। মাস্টারমশাই ছাত্রদের ধমকী হুমকী দিচ্ছে। শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
Sujan Chakraborty at Siliguri
বিজেপি’র বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট করতে হবে, শিলিগুড়িতে সুজন চক্রবর্তী
×
Comments :0