লক্ষ লক্ষ টন আলু পচবে কোল্ড স্টোরেজে। দাম পাননি আলুচাষিরা। কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু ছাড়ানোর পয়সাও নেই। হাহাকার গ্রাম বাংলায়। কাজ নেই খেত মজুরদের। সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কেবল আলু চাষ নয়, গ্রাম বাংলায় কৃষকের জ্বলন্ত সমস্যা নিয়েই ২৮ সেপ্টেম্বর ধর্মতলায় দিনভর অবস্থানে থাকবেন কৃষকরা। কলকাতার রাস্তায়, রানি রাসমণি রোডে, নিজেদের সঙ্কট জানিয়ে আলু বিক্রি করবেন কৃষকরা।
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেছেন কৃষক এবং খেতমজুর সংগঠন সমূহের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিসান মোর্চা।
এদিন কলকাতায় হরেকৃষ্ণ কোঙার স্মৃতি ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন রাজ্যে সংযুক্ত কিসান মোর্চার দুই আহ্বায়ক অমল হালদার এবং কার্তিক পাল। অংশ নেন সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পরেশ পাল এবং টিইউকেএস নেতা কল্পতরু দত্তও। মোট ২১টি সংগঠন যোগ দেবে অবস্থানে।
কৃষক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে অবস্থান। দুপুর হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দুই মিছিলে আসবেন প্রতিটি জেলার কৃষকরা। ২টে থেকে হবে সমাবেশও।
অমল হালদার বলেন, লক্ষ লক্ষ টন আলু এবার পচবে হিমঘরে। সর্বনাশের শুরু করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর সরকার বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ করেছিল। এখন বিজেপি সরকার সেই রাস্তা ধরেই চলছে।
পরেশ পাল বলেছেন, এক কেজি আলু উৎপাদনে গড়ে খরচ ৮ টাকা। কৃষক ৩টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৬-২০ টাকায়। ২৮ তারিখ প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়ে উৎপাদন খরচেই কৃষকরা কলকাতার রাস্তায় বেচবেন আলু।
গতকাল, শুক্রবার, পূর্ব বর্ধমানে কৃষকদের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পরেশ পাল বলেছেন এই সরকার যা বলে কাজে তা করে না। আমরা বলছি, ভোটের আগে বিজেপি’র সংকল্প পত্রকেই বাস্তবায়িত করুন। ৩১০০ টাকা কুইন্টাল দরে ধান কিনবে বলা হয়েছিল। বাজেটে দেখলাম কেন্দ্রীয় সরকারের সংগ্রহ মূল্যের ওপর ২০০ টাকা বেশি দেওয়ার কথা বলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সংগ্রহ মূল্য ২৪৪১ টাকা। তার ওপর ২০০ টাকা দেবে। কৃষকের কুইন্টালে খরচ রয়েছে ২৫০০ টাকা।
এই কৃষক নেতা বলেছেন, রাজ্যে ২৫৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। রাজ্যের ভেতরে খাওয়ার জন্য দরকার হয় ১১০-১২০ লক্ষ টন। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন সব ধান কিনবেন। বাকি ধান কেনা হয়। মান্ডিতে গরু-ছাগল চড়ে। আর চলে ফড়েদের উপদ্রব। বেশিরভাগই প্রান্তিক-ছোট কৃষক, ধার নিয়ে চাষ করেন। ফসল ওঠার বেশ কিছু পরে ধান কিনতে নামে সরকার। তার আগে ফড়েদেন কাছে নামমাত্র দামে অভাবী বিক্রিতে বাধ্য হন কৃষকরা। মুখ্যমন্ত্রী তার খোঁজ নিয়েছেন?
অমল হালদার বলেছেন, সারের দাম মারাত্মক বেড়েছে। তার ওপর চালু হয়েছে ট্যাগিং পদ্ধতি। ট্যাগিংয়ে যে সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে তার কার্যকারিতা কম। তিনি বলেছেন, এল নিনোতে ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে খরিফের ধানে। রবিতে মার খাবে আলু উৎপাদন। সরকার দায়িত্ব না নিলে তখন আবার দাম হু-হু করে বাড়বে।
হালদার বলেন, বামফ্রন্টের সময়ে জমির পাট্টা দেওয়া হয়েচিল। তৃণমূলের সময়েই জমির ওপর আক্রমণ বেড়েছিল। এখন তা অব্যাহত রয়েছে। বিজেপি সরকারের আসার পর তোলাবাজির মাত্রা বেনজির হয়েছে। আমরা কৃষকদের সচেতন করছি।
এদিন কৃষক নেতারা মুক্তি বাণিজ্য চুক্তি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করেন।
কার্তিক পাল বলেন, মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমাদের কৃষক ভরতুকি পায় না। আমেরিকার কৃষক বিপুল ভরতুকি পায়। আমাদের কৃষক মারা পড়বে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে দুগ্ধ উৎপাদকদের ওপর।
কৃষক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে এসআইআর’র নামে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদ জানানো হবে অবস্থানে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হবে। পাল বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের নবীন অংশ কৃষকদের পাশে শামিল হচ্ছেন।
অমল হালদার বলেন, মহিলারা কলকাতার রাস্তায় ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর যে আন্দোলন শুরু করলেন তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
কলকাতায় গণ অবস্থানে দাবি উঠবে সাম্পর্তিক বন্যায় শস্যহানির জন্য কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও। তাঁরা বলেছেন, কৃষি ঋণ মকুব করতে হবে। কর্পোরেটের ঋণ মকুব হয়। অথচ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কর্পোরেট ঋণ মেলে না।
Comments :0