দেশে তোলপাড় ফেলেছিল সেই এনকাউন্টার। অথচ গুজরাটে সোহরাবুদ্দিন শেখ এনকাউন্টারেই ‘বিরূপ’ ৯২ সাক্ষী। ছাড়াও পেয়েছে ২২ অভিযুক্ত। একসঙ্গে এতজনের ‘বিরূপ’ হয়ে যাওয়ায় গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
যে ২২ অভিযুক্ত ছাড় পেয়েছিলেন তার মধ্যে ২১ জনই পুলিশ। ঘটনার সময়ে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে ছিলেন অমিত শাহ। এই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন শাহ নিজেও। ২০১৪’র ডিসেম্বরে তাঁকে খালাস করে বিচার আদালত। তার কিছু আগেই এই আদালতের বিচারপতি বিএইচ লোওয়ার রহস্যময় মৃত্যু হয়। তবে অমিত শাহের মুক্তির ঘটনা ফের দেখবে না শীর্ষ আদালত। দেখবে বাকি ২১ জনের ছাড়ের বিষয়টি।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় সোমবার। অভিযুক্তদের খালাসের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেঞ্চে দায়ের আবেদনের শুনানি ছিল এদিন। গত ৭ মে বম্বে হাইকোর্ট অভিযুক্তদের রেহাই দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের আবেদনের শুনানিতে রাজি হয়েছে শীর্ষ আদালত। দুষ্কৃতী সোহরাবুদ্দিনের মুখ বন্ধ করানোর অভিযোগ ছিল এই এনকাউন্টার ঘিরে।
২০০৫ সালের এই এনকাউন্টার ভুয়ো ছিল, এমন অভিযোগ বারেবারেই উঠেছে। সেই মামলাতেই ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সোহরাবুদ্দিনের ভাই নয়াবুদ্দিন শেখ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দায়ের করেছেন। তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী ডিএস নাইডু। তিনি সওয়ালে বলেন, সোহরাবুদ্দিনের সঙ্গী কৌসর বি’র দেহই কেন খুঁজে পাওয়া গেল না? তিনি বিভিন্ন ফরেনসিক প্রমাণ, বুলেটের ক্ষত এবং ব্যবহৃত কার্তুজ সংক্রান্ত তথ্য পেশ করেন। তিনি বলেন, কোনও কোনও সাক্ষীকে ‘বিরূপ’ করে দেওয়া হয়েছে তবে তাদের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না।
সিবিআই এই মামলার তদন্তে বলেছিল সোহরাবুদ্দিন, তাঁর স্ত্রী কৌসর বি এবং প্রজাপতি একসঙ্গে বাসে হায়দরাবাদ থেকে মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি যাচ্ছিলেন। মাঝ পুলিশের একটি বাহিনী তাঁদের আটক করে। গুজরাট এবং রাজস্থান পুলিশ এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। অভিযোগ, তিনদিন বাদে হত্যা করা হয় কৌসর বি-কে। প্রজাপতিই প্রধান সাক্ষী। তাঁকেও ২০০৬ সালে গুজরাট-রাজস্থান সীমান্তে হত্যা করা হয় এনকাউন্টার বলে।
সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্ত এবং সিবিআই’র হলফনামা তলব করেছে।
SC Sohrabuddin Shiekh
৯২ সাক্ষী ‘বিরূপ’! গুজরাটের সেই এনকাউন্টার মামলায় প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট
শেখ সোহরাবুদ্দিনের হত্যাকে এনকাউন্টার বলেছিল গুজরাট পুলিশ।
×
Comments :0