PROBANDHYA | KRISHANU BHATTACHARJEE | SHARADA CHITFAUND | MUKTADHARA | 2026 APRIL 9 | 3rd YEAR

প্রবন্ধ | কৃশানু ভট্টাচার্য্য | এ কেমন আকাশ দেখালে তুমি ? এ কেমন আকাশ জন্মভূমি? | মুক্তধারা | ২০২৬ এপ্রিল ৯ | বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

PROBANDHYA  KRISHANU BHATTACHARJEE  SHARADA CHITFAUND  MUKTADHARA  2026 APRIL 9  3rd YEAR

প্রবন্ধ 

মুক্তধারা 

এ কেমন আকাশ দেখালে তুমি ? এ কেমন আকাশ জন্মভূমি? 

কৃশানু ভট্টাচার্য্য

২০২৬ এপ্রিল ২ | বর্ষ ৩

২০১৩- এই বাংলায় এমন কোন ঘর পাওয়া যায়নি যেখান থেকে কান্নার আওয়াজ আসে নি। কেউ হারিয়েছিলেন সর্বস্ব , কেউ হারিয়েছিলেন কিছু কিছু। কেউ বলেছিলেন যা গেছে তা যাক। কেউ বলেছিলেন এ টাকা উদ্ধার করবোই করবো। ‌
তারপর এ কোর্ট, ও কোর্ট , সে কোর্ট করতে করতে, আইনজীবী থেকে আইনজীবী, বিচারক থেকে বিচারক অদল বদল হতে হতে কেটে গেল তেরোটা বছর। কেউ কেউ কারাগারে গেলেন, নিয়ম করে বেরিয়ে গেলেন। লাল পেনড্রাইভ চুরি  নিয়ে হাজারো পথ অবরোধ হলো, প্রিজন ভ্যানে থাপ্পড় মেরে কেউ আল্লারাখ্যা কিংবা জাকির হোসেন হয়ে গেলেন, আবার পরেই রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয়ে জলে ভাসতে লাগলেন। কিন্তু বন্ধ হল না চোখের জল। 
সে সময়ে এক সেলুনে একজনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। ‌ মানুষটির বাড়ি রানাঘাটে। নিজের এলাকা থেকে রাতারাতি পালিয়ে চলে এসেছিলেন বেলঘড়িয়ায়। ‌ শুরু করেছিলেন আবার নতুন করে চুল কাটার কাজ। ‌ মাঝে বছর চারেক ছিলেন একজন এজেন্ট। সে সময় বেড়ার বাড়ি পাকা হয়েছিল, সাইকেল বদলে হয়েছিল বাইক বাড়িতে টিভি এসি কোন কিছুই বাদ ছিল না। তারপর রাতারাতি হাওয়া হয়ে গেলেন কোম্পানির মালিক কাশ্মীরে। ‌ সেখান থেকে ফিরে এলেন সোজা জেলখানায়। ‌ সেদিন ওই মানুষটির মতো হাজার হাজার এজেন্ট ঘর ছাড়া হয়েছিলেন।‌ কারণ যাদের মুখের কথায় বিশ্বাস করে লক্ষ লক্ষ মানুষের কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে তারা বেশ কয়েকটি কোম্পানির ভান্ডার ভরিয়ে ছিলেন - যে ভান্ডার ব্যবহার করে কখনো ছবি কেনা হয়েছে, কখনো অ্যাম্বুলেন্স দান করা হয়েছে,  কখনোবা  নির্বাচনে জেতার জন্য টাকা বন্টন করা হয়েছে রাতারাতি সেই কোম্পানি লোপাট হয়ে গেছে। বিন্দু বিন্দু জমে সিন্ধু হয়েছিল , একদিন সেই সিন্ধু আকাশে মেঘ হয়ে উবে গেল। ‌ কান্না হয়ে ঝরে পড়েছিল এই বাংলার বুকে। 


তারপর কত কি? বেনিফিশিয়ারি কে খুঁজতে খুঁজতে সিআইডি সিবিআই রাজ্য পুলিশ হিমশিম খেয়ে ১৩ বছর বাদে মামলার নথি হারিয়ে ফেলে সেই কোম্পানির মালিক জেলখানা থেকে বেরিয়ে এলেন। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার দুইয়ের অবিস্মরণীয় যুগলবন্দীর সাক্ষী হয়ে রইল এই বাংলার মাটি।আবারও কি সেই বুকফাটার কান্নায় আমাদের এই বাংলার মাটি কেঁপে উঠতে চলেছে। একটু বেশি সিগারেট খেয়ে সরকারের ভাড়ার পূর্ণ করেও কোন মানুষ তার জমা টাকা ফেরত পাননি। এই বাংলায় যেসব মানুষের মনে এখনো ছিটে ফোঁটা সংবেদনশীলতা আছে আজ কি তারা কাঁদছেন? না এ কোন সরষের তেলের বিজ্ঞাপন নয় যে যার ঝাঁঝে বাঙালি কাঁদবে। ‌ এ কান্না সব হারানোর কান্না, সম্বল হীন মানুষের হতাশায় তলিয়ে যাবার কান্না।  বেশ কিছু মানুষের আত্মহত্যার কারণ হয়েছিল এই চিটফান্ড কেলেঙ্কারি।‌ এ কান্না তাদের হারিয়ে ফেলার জন্য কান্না। আমরা কি এই কান্নাই শুনতে চাই? নাকি শুনতে চাই একটা মহা গর্জন - যা মানুষকে কাদানো ওই অন্ধকার শক্তির বুকের পাঁজর চুরমার করে দিতে পারে। 
অপেক্ষাই এখন  ভবিষ্যত।

Comments :0

Login to leave a comment