জামিন পেলেন লিওনেল মেসি’র অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। সোমবার বিধাননগর আদালতে ১০ হাজার টাকার বন্ডের ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসিকে বরণ করে নেওয়ার কথা ছিল তিলোত্তমার। সেদিন তাঁকে বরণ করা তো দূরের কথা একপলক দেখতে অবধি পাননি না গাঁটের কড়ি খরচ করে যুবভারতীতে আসা ফুটবল প্রেমীরা। যার জেরে লজ্জাজনক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলো কলকাতা। মেসি মাঠ ছাড়ার মুহূর্ত থেকে পরের একঘন্টা রীতিমতো তান্ডব চলে স্টেডিয়ামে। মাঠের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষী সহ পুলিশ তখন দর্শক। বাধা দেওয়ার ন্যূনতম প্রচেষ্টা তাঁদের মধ্যে দেখা যায়নি সেদিন। মাঠ ছাড়ার সময়ই জনতা আঙুল তোলেন রাজ্য সরকার, রাজ্যের পুলিশ এবং যিনি মেসিকে কলকাতায় এনেছেন ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্তের দিকে। যুবভারতীর অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শতদ্রুকে। টিকিট কেটে মাঠে যাওয়া সবার টাকা ফেরতের দাবি করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি সেদিন দাবি করেছিলেন, কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে। কলকাতা সহ গোটা বাংলার দুর্নাম ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশ সহ বিশ্বে। বিশ্বমানের ফুটবলার লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনাকে কেন্দ্র করে আয়োজক ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে এই সমগ্র ঘটনার জন্য দায়ী করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ সভা হয়।
সেদিন যুবভারতীতে আসা ফুটবল প্রেমীদের একাংশ বলেন, ‘‘২০০৮ সালে সুভাষ চক্রবর্তী থাকাকালীন দিয়েগো মারাদোনাকে কলকাতায় এনেছিলেন। কীভাবে সুশৃঙ্খলপূর্ণভাবে একটি অনুষ্ঠানে আয়োজন করতে হয়। তিনি দেখিয়ে ছিলেন। আর এবারের মেসির আগমনে তাঁর সঙ্গে যেভাবে তৃণমূলের সাঙ্গোপাঙ্গরা আঠার মতো লেগেছিলেন গ্যালারিতে বসে মেসিকে আমরা দেখতেই পেলাম না।’’
১৩ ডিসেম্বরই লিওনেল মেসি’র অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে পুলিশ বিমানবন্দরের কাছে আটক করে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়। যুবভারতী বিশৃঙ্খলা নিয়েও অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে সিট গঠন হয়। তাঁর রিষড়ার বাড়ি থেকে মেসির অনুষ্ঠান সংক্রান্ত প্রচুর নথি উদ্ধার করে সিট। শতদ্রুর অ্যাকাউন্টে থাকা ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে জানায় সিট। ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে ছিলেন তিনি। ২৮ ডিসেম্বর তাঁর জামিন খারিজ হয়ে যায়। এদিন বিধাননগর মহকুমা আদালতে শতদ্রু দত্তকে তোলা হলে তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে ১০ হাজার টাকার বন্ডে অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি। তবে তাঁকে একাধিক শর্ত মানতে হবে। সমস্ত ডকুমেন্ট জমা রাখাতে হবে, এমনকি কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না তিনি।
Satadru Dutta
শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত
×
Comments :0