উত্তর সিকিমে ভ্রমণের আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল উদ্বেগে। চুংথাং থেকে লাচেনগামী রাস্তায় তারুম চু ব্রিজের কাছে এক বিশাল ধসের জেরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে লাচেন এলাকায় বর্তমানে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আইটিবিপি , বিআরও এবং ভারতীয় সেনা যৌথভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, লাচেন থেকে ডংকিয়া লা ও লাচুং হয়ে গ্যাংটক রুট দিয়ে পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।
আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় এদিন পর্যটকদের লাচেনেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে আগামীকাল সোমবার আবহাওয়া পরিষ্কার হলে তবেই রাস্তা থেকে বরফ ও ধস সরানোর কাজ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত পর্যটকদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে এবং ঘরের বাইরে বের না হতে অনুরোধ করা হয়েছে। সড়কপথ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তবে এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর এই যে, লাচুং, ইয়ুমথাং ভ্যালি এবং জিরো পয়েন্ট যাওয়ার রুটটি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। মূলত লাচেন অভিমুখেই বিপত্তি বেশি দেখা দিয়েছে।
এদিন সিকিম পর্যটনের তরফে একটি নোটিশ জারি করে সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা জানানো হয়েছে। জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে আটকে পড়া পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আপাতত সমস্ত পর্যটককে গ্যাংটকের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। সিকিম প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সেতুর একাংশ ভাঙলেও বেশিরভাগ অংশে তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে আগামী কয়েকদিন সিকিমের গ্যাংটক সহ বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে মঙ্গনের বিভিন্ন এলাকায়। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বুধবারের পরে। গ্যাংটক ও মঙ্গন এলাকায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে।
প্রসঙ্গত গত বছর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো লাচুং ব্রেইলি ব্রিজটি। পরবর্তীতে সেনার উদ্যোগে ফের ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পুর্নঃনির্মানের কাজ করা হয়। গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই লাচুং ব্রেইলি সেতুটির নতুন করে উদ্বোধন হয়েছিলো। এক মাস যেতে না যেতেই ব্রেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় সেতুটির নির্মান কাজ সহ সংক্রান্ত বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রবিবার সেতুটি ভেঙে পড়ায় দেশ বিদেশ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়েছেন। উত্তর সিকিমের আবহাওয়া বর্তমানে অত্যন্ত খামখেয়ালি। তাই যারা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উত্তর সিকিম ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে এবং প্রশাসনের গাইডলাইন মেনেই যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Landslides in Sikkim
উত্তর সিকিমে ধস, লাচেনে আটকে বহু পর্যটক
×
Comments :0