Uttarpara Assembly

৩৫০ পাড়া বৈঠকে মানুষের কথা শুনেই তৈরি হয়েছে ইশ্‌তেহার : মিনাক্ষী

রাজ্য বাংলা বাঁচানোর ভোট

উত্তরপাড়ায় লাল ঝান্ডা মানুষের কাছে ভোট চাইছে ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের হয়ে কাজ করার জন্য। উত্তরপাড়া বিধানসভার ইশ্‌তেহার প্রকাশে বললেন উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী মিনাক্ষী মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘৩৫০টা পাড়া বৈঠক করা হয়েছে। মানুষের সাথে কথা বলা হয়েছে। তাদের সাথে কথা বলার পর তাদের অভাব অভিযোগ শুনেই তৈরি হয়েছে এই ইশ্‌তেহার।’
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মিনাক্ষী বলেন, ‘উত্তরপাড়া সংস্কৃতির পীঠস্থান। মানুষ নিজের চেষ্টায় তৈরি করেছেন লাইব্রেরী, হাসপাতাল, স্কুল। আজ সেই উত্তরপাড়া শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ মন খুলে কথা বলতে পারছেন না। আমাদের প্রথম কথা উত্তরপাড়ার যেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তা ফিরিয়ে আনতে হবে। তৈরি হবে মুক্ত মঞ্চ, থিয়েটার হল। হল ভাড়া আগে ছিল তিন হাজার টাকা এখন ২২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। শিল্প সংস্কৃতির যেই বিকাশ তা আটকানো হচ্ছে। মানুষের কথা শুনে আমরা তাই বলছি থিয়েটার হল, মুক্ত মঞ্চ তৈরি হবে।’
রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতো উত্তরপাড়াতেও বন্ধ হয়েছে সরকারি স্কুল। মিনাক্ষী বলেন, ‘১৭টা স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে উত্তরপাড়ায়। ২২টা স্কুল মার্জ করা হয়েছে। এলাকার মানুষ বলছে সরকারি স্কুলকে বাঁচাতে হবে। স্কুল খুলতে হবে। তার সাথে আমরা বলছি কেরিয়ার ওরিয়েনটেশন সেন্টার খোলা হবে নূন্যতম সহায়ক মূল্যে। সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা থাকবে।’ সিপিআই(এম) প্রার্থী বলেন, ‘মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই চাপও কমানোর জন্য চেষ্টা চালানো হবে এই সেন্টারে।’
উত্তরপাড়া শিল্পনগরী বলে পরিচিত ছিল। কিন্তু তৃণমূল শাসনে বন্ধ হয়েছে একাধিক কারখানা। আর এই শিল্প তালুককে নতুন করে গড়ে তোলার কথা বলছে সিপিআই(এম) এর ইশ্‌তেহার। মিনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ‘কারখানার জমি ফাঁকা। কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে কারখানা না হলে এই এলাকার অর্থনীতি আমরা পূনর্গঠন করতে পারবো না। এলাকার মানুষ চাইছে এলাকার ছেলে মেয়েদের কর্মসংস্থান হোক। উত্তরপাড়ায় কারখানা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কাজ আমরা করবো। তৃণমূল জমি গুলো বিক্রি করতে চাইছে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করছি। শিল্প পার্ক গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।’
উত্তরপাড়ায় সিপিআই(এম) এর ইশ্‌তেহারে গুরুত্ব পেয়েছে পরিবেশ রক্ষার বিষয়। ইশ্‌তেহারে বলা হয়েছে, গঙ্গারপার ধরে তৈরি হবে গ্রীণ করিডোর। পাড়ায় পাড়ায় যেই মাঠ গুলো তৃণমূলের সিন্ডিকেট চক্র দখল করার চেষ্টা করছে তা আটকানো হবে। মাঠ, পুকুর রক্ষা করা হবে। 
নারী নিরাপত্তার জন্য মেয়েদের ব্রিগেড তৈরির কথাও বলেছে সিপিআই(এম)। মিনাক্ষী বলেন, উত্তরপাড়ায় মহিলা ভোটার বেশি। আজ এই রাজ্যে মহিলা আক্রান্ত। আমরা শপথ নিয়েছি আমরা মেয়েরা নিজেদের রক্ষা করবো। তাই তৈরি হবে মেয়েদের ব্রিগেড।  


উল্লেখ্য রাজ্যের বাকি জায়গা গুলোর মতো উত্তরপাড়াতেও রয়েছে মাইক্রোফিনান্সের দাপট। মিনাক্ষী বলেন, মহিলাদের বাধ্য করা হচ্ছে মাইক্রোফিনান্সের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিতে। টাকা শোধ করতে না পারলে বাউন্সাররা গিয়ে বাড়িতে চড়াও হচ্ছে। রাজ্য সরকারের কেন্দ্রীয় সরকারের কোন নীতি নেই এই সংস্থা গুলোর বিরুদ্ধে। আমরা বলছি যারা এই লোন শোধ করতে পারবে না তাদের মানবিক দিক থেকে দেখতে হবে। এর সাথে এই কুটি শিল্প গুলোকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রবীন মানুষদের দেখার জন্য তৈরি হবে নবীন দের বাহিনী। যেই সব বয়স্ক মানুষরা একা থাকেন। তাদের পাশে থাকবে এই বাহিনী।
সিপিআই(এম) প্রার্থী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্র তৈরি করার জায়গা রয়েছে উত্তরপাড়ায়। খালি জমি গুলোয় সেই কাজ করা সম্ভব। 
উল্লেখ যোগ্য দিক হচ্ছএ গিগ শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার। সেখানে তারা ফোন চার্জ দিতে পারবে। থাকবে ওয়াই ফাই। চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকবে সেখানে তাদের জন্য। টোটো অটো চালকদের জন্য অভিযোগ সেল তৈরি করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অন্যায় হলে সেই দিকে নজর দেওয়া হবে। 
উত্তরপাড়ার লাইব্রেরি বাঁচাতে বলা হয়েছে, লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ করার কথা। লেখা পড়ার জন্য যেই পরিমণ্ডল দরকার তা থাকবে, আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে গড়ে তোলা হবে এই লাইব্রেরি। 
ইশ্‌তেহারে বলা হয়েছে, ডেভেলপমেন্ট ফি’র নাম করে স্কুল কলেজ গুলোয় বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। সেই টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তার হিসাব প্রকাশ্যে দিতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে। 
মিনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ‘উত্তরপাড়ার মানুষ প্রতিটা পাড়া বৈঠকে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক করার কথা বলেছে। আধুনিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও তারা বলেছে। মানসিক স্বাস্থ্য, উন্নত ডায়লেসিস সেন্টার, আইসিইউ তৈরি। আধুনিক ব্লাড ব্যাঙ্ক। কানাইপুর গ্রামীণ হাসপাতালকে ব্লক হাসপাতাল করতে হবে।’ এর পাশাপাশি পঞ্চায়েত পৌরসভা গুলোয় স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচার হবে বলেও ইশ্‌তেহারে বলা হয়েছে।
পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীদের ভাতার কথা বলা হয়েছে। সিপিআই(এম) প্রার্থী বলেন, পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীদের নির্দিষ্ট কোন ভাতা নেই। তাদের ভাতা বৃদ্ধি হয় না। ঘোরানো হয় নাকে দড়ি দিয়ে। আমরা ইশ্‌তেহারে অস্থায়ী কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর কথা বলছি।

Comments :0

Login to leave a comment