রাজ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানালো আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানান, বন্দর, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সড়ক, সেতু, সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নিউ টাউনে প্রস্তাবিত হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ২,০০০।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে দুটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। একটি মহাকরণের সংস্কার সংক্রান্ত এবং অন্যটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে। মহাকরণের সংস্কারকাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ চলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সংস্কার প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠীর সিএসআর সহায়তার কথাও উঠে এসেছে।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষের কাছে দুর্গাপুজোর গুরুত্ব আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। তার দাবি, রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে তার সরকার কাজ করছে।
শিল্পায়ন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। আদানি গোষ্ঠী সেখানে জমির অপ্রতুলতার কথা জানিয়েছিল বলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য। পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্যের সঙ্গে তৎকালীন বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনেরও উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, গৌতম আদানি তার বক্তব্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, পরিকাঠামো তৈরি হলে বৃহৎ সংখ্যক মানুষের সামনে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিকাঠামো রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন আদানি। তার বক্তব্য, দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব কিছু ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা রয়েছে।
নিউ টাউনের হাসপাতাল প্রকল্পটি নিয়ে এর আগেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ২,০০০ শয্যার হাসপাতালটির একটি অংশ অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের জন্য রাখা হবে।
আদানি গোষ্ঠীর এই বিনিয়োগের ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংস্থাটির একাধিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো এবং শিল্পক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব কর্মসংস্থান ও রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোর ওপর পড়তে পারে যদিও ঘোষিত বিনিয়োগের বাস্তবায়ন প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতি ও সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
Adani West Bengal
রাজ্যে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের দাবি আদানির
×
Comments :0