পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হতে চলেছে বৃহস্পতিবার। রাজ্যে এসআইআর'র প্রক্রিয়ার পর ভোট হচ্ছে প্রথম দফার।
দুই দফার নির্বাচনের প্রথম পর্বে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টি আসনে এদিন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সবকটি আসনেই অর্থাৎ ৫৪টি আসনেই এদিন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে।
এছাড়াও, এই পর্বে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম ও হুগলির বেশ কয়েকটি আসনেও ভোটগ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার প্রায় ১.৭৫ কোটি মহিলা সহ মোট ৩.৬০ কোটিরও বেশি ভোটদাতা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই নির্বাচনে কমিশন রেকর্ড সংখ্যক, ২,৪৫০ কোম্পানি, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। সেই সঙ্গে, ৮,০০০-র ও বেশি ভোটকেন্দ্রকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাজ্যে এসআইআর এবং তারপর বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালের কাছে ভোটাধিকার বিবেচনাধীন। এই প্রথম কোনও নির্বাচনে ভোটার তালিকা তৈরির জন্য হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে বিচারবিভাগকে। কিন্তু ভোটার তালিকা ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সব বুথ থেকে ওয়েব কাস্টিং হওয়ার কথা। বুধবার নির্বাচন কমিশন সোশাল মিডিয়া পোস্টে বলেছে, ‘ওয়েব কাস্টিং শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ভোটদান কক্ষের ভেতরে কী হচ্ছে তা ক্যামেরায় দেখা যায় না।
আপনার ভোট সম্পূর্ণ গোপন থাকবে।‘
কমিশন ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার কতটা পালিত করতে পারবে বোঝা যাবে প্রথম দফার ভোটেই।
তবে বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরে অব্যবস্থা ঘিরে ভোটকর্মীদের ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। নিমতৌড়িতে ডিসিআরসি থেকে এই মহিলা ভোটকর্মীদের কোলাঘাটের দিকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গাড়িতে কোনও সুরক্ষা কর্মীই নেই বলে অভিযোগ জানান তাঁরা। সকাল থেকে পানীয় জল বা খাবারের ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও রয়েছে। মহিলা ভোটকর্মীরা সুরক্ষার অভাবজনিত আশঙ্কা জানিয়েছেন।
এই নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপি মেরুকরণ করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। সে কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এসআইআর-কে। দেখা গিয়েছে এই প্রক্রিয়ায় অসম অনুপাতে বাদ দেওয়া হয়েছে মহিলা, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও আদিবাসী অংশের মানুষের। সেখানে দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির মতো বিষয়গুলি নিয়ে প্রচার চালিয়েছে বামপন্থীরা। এসআইআর’র মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার কড়া বিরোধিতাই করে গিয়েছেন বামপন্থীরা। সাধারণ মানুষের হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
পাশাপাশি, ' বাংলাকে বাঁচানোর' মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শিক্ষা, শিল্প, কাজ, স্বাস্থ্য, প্রকৃতি, কৃষ্টি সহ একাধিক বিষয় নিয়ে এই নির্বাচনে লড়াই করছে বামপন্থীরা।
নির্বাচনের এই পর্বে একদিকে যেমন জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের চা বাগান, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড় রয়েছে, তেমনি কোচবিহার, মালদা ও দুই দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী জেলা এবং মুর্শিদাবাদও রয়েছে। জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি দুই মেদিনীপুর, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো মোট ১৬ জেলায় ভোট এই পর্বেই।
এই ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, একটি বিষয় প্রায় প্রতিটি জেলাতেই বিশেষ প্রভাব ফেলেছে, সেটি হলো ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাংলার ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ কমে গেছে। শুধু মুর্শিদাবাদেই ৭.৪৮ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মালদায় ৪.৫৯ লক্ষ, উত্তর দিনাজপুরে ৩.৬৩ লক্ষ এবং কোচবিহারে ২.৪২ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে।
West Bengal Elections first phase voting
এসআইআর আবহে রাজ্যের ১৬ জেলায় প্রথম দফার ভোট কাল
নির্বাচনী সামগ্রী বহন করছেন ভোটকর্মীরা।
×
Comments :0