adani kumartuli ghat

গঙ্গার ঘাট কী আদানিকে তুলে দিচ্ছে পোর্ট ট্রাস্ট

রাজ্য কলকাতা স্পটলাইট

কুমারটুলির গঙ্গার ঘাটে চলছে কাজ। ছবি: রবীন গোলদার।

অরিজিৎ মন্ডল 

কলকাতার নস্টালজিয়া এবার গ্রাস করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। গঙ্গার সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে এই গোষ্ঠীর দায়িত্ব পাওয়া সংক্রান্ত আলোচনায় তৈরি হয়েছে আশঙ্কা।
জানা গিয়েছে, শুধু কুমারটুলি ঘাট নয়। ‘মায়ের ঘাট‘ সহ আরও চারটি ঘাটে একইভাবে কাজ করবে আদানি গোষ্ঠী।
একটি সর্বভারতীয় দৈনিক এই মর্মে খবরও করেছে। 


জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। 
আদানি পোর্টের আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে ‘কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষায় তারা এই কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য এই ঐতিহ্যবাহী গঙ্গার ঘাটটির আরও পরিচ্ছন্ন নিরাপদ ও দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা।‘ 
এই প্রশ্নও রয়েছে যে ২০২৫ সালে এই চুক্তি হওয়ার পরও কাজ শুরু করতে এত সময় লাগলো কেন? উঠছে এই প্রশ্ন। 
অনেকেরই অনুমান, রাজ্যে পট পরিবর্তনের পরেই তৎপর হয়ে কাজ শুরু করেছে আদানি গোষ্ঠী। সেই কাজে সাহায্য করছে রাজ্যে আসীন নতুন সরকার। 
এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছে যে আদানি গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই কুমারটুলি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আলাদাভাবে ফেনসিং লাগানোর কাজ শুরু করেছে। ভাঙা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা। যা নিয়ে এলাকার মানুষ থেকে আগত পর্যটকদের মধ্যেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ। 


কিন্তু মনে করা হচ্ছে এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর পরিকল্পনা। গঙ্গার তীরবর্তী পোর্ট ট্রাস্টের বিভিন্ন জায়গা তুলে দেওয়া হতে পারে আদানি গোষ্ঠীর হাতে। এছাড়াও প্রাথমিকভাবে এই কুমারটুলি ঘাট সংলগ্ন যে ছোট ছোট দোকানদার বা হকার রয়েছেন, তাঁদেরও রুজি রুটিতে টান পড়তে পারে। 
স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা অজয় সাহা জানাচ্ছেন, সংস্কার বা সৌন্দর্যায়নকে সামনে রাখা হচ্ছে। নিমতলা ঘাট শ্মশানের পর মিলেনিয়াম পার্কের আগে পর্যন্ত পোর্ট ট্রাস্টের বহু অব্যবহৃত জায়গা রয়েছে। এই এলাকাতেই রয়েছে কলকাতার বৃহৎ ফুলের মার্কেট। হয়তো এই জায়গাতেই আদানি গোষ্ঠী তাদের বিনিয়োগ করবে।


তিনি আরও জানাচ্ছেন, স্ট্যান্ড ব্যাংক রোড যা গঙ্গার ধারের রাস্তা। এই রাস্তার উপর বিভিন্ন যে দোকান গোডাউন রয়েছে তার মালিকানা কার অধীনে এই নিয়ে রয়েছে ও প্রশ্ন। রানী রাসমণি পরিবারের মালিকানাধীন এই এলাকা স্বাধীনতার আগে থেকেই বিভিন্ন ছোট ছোট কোম্পানিকে লিজ দেওয়া ছিল। যা পরবর্তীতে পাঁচ থেকে ছ’ বার হাত বদল হয়েছে। 
এই এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ করে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট। কিন্তু রাজ্য সরকার ও কর্পোরেশনের অধীনেই এলাকা, এই দাবিতে ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ হাইকোর্ট একটি মামলাও করা হয়। 
আশঙ্কা রয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বলে পোর্ট ট্রাস্ট গোটা এলাকা আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিতে চাইছে। রাজ্যের সরকারে বিজেপি আসীন হওয়ায় এ কাজ সুবিধাজনক হবে।
অজয় সাহার বক্তব্য, তারই প্রাথমিক রূপ হিসেবে হয়তো এই সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে।

Comments :0

Login to leave a comment