M A Baby on CUET

ছাত্র-যুবরা ক্ষমা করবে না মোদী সরকারকে, শিক্ষার বিপর্যয়ে বললেন বেবি

জাতীয়

পরীক্ষা ব্যবস্থা, খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নেই। নেই দায়বদ্ধতা। তার মাশুল দিচ্ছে দেশের নবীন প্রজন্ম। 
শিক্ষাক্ষেত্রে  অরাজকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।
গত শনিবার, ৩০ মে, বিভ্রাট হয়েছে জাতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা সিইউইটি ঘিরে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর হতাশা বেরিয়ে এসেছে।
বেবি বলেছেন, ‘‘মেডিক্যাল প্রবেশিকা ‘নিট’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল যে নরেন্দ্র মোদী নিজে পরীক্ষা পদ্ধতির ওপর নজর রাখছেন। কেন্দ্রের মোদী সরকার গঠিত ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ দাবি করেছিল সবরকম সুরক্ষা চালু করা হয়েছে যাতে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হয়।’’
এরপরই বেবি বলেছেন, ‘‘কিন্তু মোদীর কড়া নজরের মধ্যে এই এনটিএ-ই সুষ্ঠুভাবে সিইউইটি  সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলো। হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে ভয়াবহ মানসিক চাপের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হলো। আসল সত্য হলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেই গোলমালের মধ্যে ফেলে দিয়েছে মোদী সরকার।’’
কিছুদিন আগেই ফাঁস হয়ে যায় ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। এরপর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন বোর্ড সিবিএসই’র দ্বাদশের পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন ঘিরে গুরুতর গলদ দেখা দেয়। এক ছাত্র সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছিল যে খাতা রিভিউ করতে চাওয়ায় তাকে অন্যের খাতা দেওয়া হয়েছে। এমন অভিজ্ঞতা জানায় বহু ছাত্রছাত্রী। 
সরকারি সংস্থা দূরদর্শনের সঞ্চালক এই পোস্টের সঙ্গে আবার পাকিস্তানের সংযোগ খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই ছাত্রকে ‘পাকিস্তানি‘ প্রমাণ করতে নেমে পড়েছিল হিন্দুত্ববাদী বাহিনী। পরে সিবিএসই স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে ওই ছাত্র সঠিক অভিযোগই জানিয়েছে। অন্যের খাতা দেওয়া হয়েছে তাকে। সিলেবাসে বিকৃতি, ইতিহাস বিকৃতির লক্ষ্যে চলা উগ্র হিন্দুত্ববাদী দর্শন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নতি নিয়ে ভাবিত নয়, বলছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশ। বেবি বলেছেন, ‘‘শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে খেলা করছে কেন্দ্রের সরকার। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে। কোনও স্বচ্ছতা নেই। দায়বদ্ধতা নেই। দেশের ছাত্র যুবরা মোদী সরকারকে ক্ষমা করবে না।’’
রবিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও দীর্ঘ পোস্টে শিক্ষা এবং একের পর এক পরীক্ষা নিয়ে চরম গোলযোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘এক সময়ে দেশের আইআইটি, আইআইএম’র মতো প্রতিষ্ঠান দেশের প্রতিভাবানদের পরিচর্যা করত। আজকে ঠিকভাবে একটা পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না।’’    

Comments :0

Login to leave a comment