Mohun Bagan

অসম্ভবের পথে অভিযান মোহনবাগানের ফুটবলে সবই সম্ভব, মত লোবেরা-দিমি দুজনেরই

খেলা

আইএসএলের শেষ ম্যাচে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিপক্ষে নামছে মোহনবাগান। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় রয়েছে তারা। শেষ ম্যাচে জিতলেই হবে না। তাকিয়ে থাকতে হবে ইস্টবেঙ্গল ও ইন্টার কাশি ম্যাচের দিকে। যদি ইন্টার কাশির কাছে লাল-হলুদ দল হারে বা ড্র করে, সেক্ষেত্রে দিল্লিকে হারালেই চ্যাম্পিয়ন সবুজ মেরুন দল। ইস্টবেঙ্গল জিতে গেলে দিল্লিকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। এছাড়া কোনও উপায় নেই। 
খেলার আগের দিন সাংবাদিকদের কাছে দলের প্রধান কোচ সার্জিও লোবেরা বললেন, ‘আমরা যে পরিস্থিতিতে থাকতে চেয়েছিলাম, এখন সেখানে নেই। কিন্তু এখনও সুযোগ আছে। আমাদের জিততেই হবে। এখনও দুটো পরিস্থিতিতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। সেই লক্ষ্যেই লড়তে হবে।’ লোবেরা দিল্লিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘আমরা খুব ভালো এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামছি। প্রথম মরশুম হলেও ওরা দারুণ ফুটবল খেলেছে। যদি আমরা শতভাগ না দিই, তাহলে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। অবশ্যই জিততে হবে। গোল পার্থক্যের বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে। সেটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। ফুটবলে সবই সম্ভব।’ স্পোর্টিং দিল্লি ম্যাচে কার্ড সমস্যায় নেই ডিফেন্ডার আলবার্তো রড্রিগেজ। চোট সমস্যায় অনিশ্চিত আপুইয়া। কামিন্সকে নিয়ে ধোঁয়াশা। এদিন তাঁকে দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে। 
শুরুতে বেশ কিছু ম্যাচ মোহনবাগান বড় ব্যবধানে জিতেছিল। পরের দিকে গোল খুবই কম হয়েছে। লোবেরা নিজেই একসময় কম ব্যবধানে হলেও জয়ের কথা বলেছিলেন। অথচ গোল পার্থক্যই এখন সমস্যা। লোবেরা বলেন, ‘সুযোগ তৈরি করছি, গোলের সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু ভারসাম্যও দরকার। শেষ ম্যাচেও আমরা আরও গোল করতে পারতাম। এটা শুধু আক্রমণভাগের ব্যাপার নয়। পুরো দলের ভারসাম্যের ব্যাপার। আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেললে কিছু ঝুঁকি নিতেই হয়। কিছু ম্যাচে আমরা সেই কারণে ভুগেছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘প্রতি ম্যাচে পাঁচ গোল করা সম্ভবও নয়।’ এরপর লোবেরা বলেন, ‘গোল পার্থক্যের পরিস্থিতিটাও মাথায় রাখতে হবে। খেলোয়াড়রা পরিস্থিতি বোঝে। জানে কীভাবে এই ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে হয়। আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। খেলোয়াড়রা ট্রফি জিততে ভীষণ আগ্রহী।’
মরশুম প্রত্যাশা মতো হয়নি বললেও লোবেরা তা ব্যাখ্যায করলেন না। বললেন, ‘অতীত নিয়ে কথা বলা আমাদের কোনও সাহায্য করবে না। মরশুম শেষ হলে আমরা বিশ্লেষণ করব। এখন অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান।’
এরপর আপুইয়া সম্পর্কে লোবেরা জানান, আপুইয়া সম্ভবত খেলতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘ও আগামীকালের ম্যাচের জন্য পুরোপুরি ফিট নয়। আর জেসনের ব্যাপারে শেষ ট্রেনিং সেশনে আমরা চেষ্টা করব। কঠিন হবে, কিন্তু অসম্ভব নয়। পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে আগামীকাল খেলতে পারবে কি না।’
বিপক্ষ দিল্লি এফসিকে একবারেই হাল্কাভাবে নিচ্ছেন না লোবেরা। বললেন, ‘ওরা সাহসী ফুটবল খেলে। বল পায়ে রেখে গড়ে খেলার চেষ্টা করে। ট্রানজিশনেও বিপজ্জনক। তাই এটাকে সহজ ম্যাচ বা সহজে অনেক গোল হবে, এমন ভাবাটা বড় ভুল।’ 
সমর্থকদের উদ্দেশে লোবেরা বলেন, ‘সমর্থকদের কাছে কিছু চাওয়ার নেই। কিছু দেওয়ার দায়িত্ব আছে। কঠিন মরশুমেও তারা ইতিবাচক থেকেছে। তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য। আশা করি আগামীকাল তাদের খুশি করতে পারব। এই ক্লাবের আবেগ, সমর্থকদের ভালোবাসা— সবকিছুই ফুটবলের চেয়েও বড়।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দিমিত্রি পেত্রাতোসও। অন্যান্য মরশুমের মতো তিনি এবছর পারফর্ম করতে পারেননি। বললেন, ‘একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমাদের শুধু এগিয়ে যেতে হবে। সবকিছু উজাড় করে দিতে হবে।’ 
দিল্লি ম্যাচ দিমিত্রির সবুজ-মেরুন জার্সিতে শেষ ম্যাচ হতে পারে। ব্যক্তিগত তিনি বললেন, ‘সবসময় যেমন করি, তেমনই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। এই জার্সি পরার মানে আমি জানি। ক্লাবের জন্য লড়ব। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ 
এরপরেই দিমিকে সমাজমাধ্যমে ‘লাস্ট ডান্স’ পোস্টের অর্থ জিজ্ঞাসা করায় তিনি একই কথা বলেন। 
দিমি অবশ্য মনে করেন না ছোট লিগ বা দেরিতে শুরু হওয়া, পারফরম্যান্সে কোনও প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘সবার পরিস্থিতি একই ছিল। এটা স্বাভাবিক মরশুমের মতো নয়, ম্যাচও কম। মানিয়ে নিতে হয়েছে।’ 
তবে অন্যের ফলাফলের উপর দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নির্ভর করছে এমন পরিস্থিতি দিমি এর আগে দেখেননি। দিল্লির বিপক্ষে বড় জয় সম্পর্কে বললেন, ‘ফুটবলে সবই সম্ভব। আগামীকাল কী হবে কেউ জানে না।’ সমর্থকদের বললেন, ‘আবারও মাঠে এসে আমাদের সমর্থন করুন।’
 

Comments :0

Login to leave a comment