দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল আর্সেনাল। ফুটবলপ্রেমীদের শ্বাসরুদ্ধকর এক মৌসুম উপহার দিয়ে গানার্সরা নিশ্চিত করল তাদের কাঙ্ক্ষিত লিগ জয়। আর্টেটার মাস্টারক্লাস কৌশল আর তরুণ তুর্কিদের মাঠ কাঁপানো পারফরম্যান্সে লাল লন্ডনে এখন শুধুই উৎসবের রং।
গত কয়েক মৌসুম ধরে একদম কাছ থেকে ট্রফি ফস্কে যাওয়ার যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, এবার তা সুদে-আসলে পুষিয়ে নিল আর্সেনাল। লিগের শুরু থেকেই ম্যানচেস্টার সিটি এবং লিভারপুলের মতো দলের সাথে সমানে সমানে টক্কর দিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল তারা। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচগুলোতে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে আনাই ছিল এবারের গানার্সদের মূল ইউএসপি।
আর্সেনালের এই জয়ের পিছনে পুরো দলের অবদান থাকলেও, তিনজনের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। মিকেল আর্টেটা সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে নিজের 'প্রসেস'-এর ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন আর্টেটা। তার ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখার ক্ষমতাই আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়ন করেছে।
বুকায়ো সাকা ডান প্রান্ত দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চুরমার করা সাকা এবার গোল এবং অ্যাসিস্টের বন্যায় ভাসিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার গোলগুলোই আর্সেনালকে লিগের ড্রাইভিং সিটে রেখেছিল।
মার্টিন ওডেগার্ড দলের অধিনায়ক মাঝমাঠের জেনারেল হিসাবে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তা এক কথায় জাদুকরী। তার নেতৃত্বগুণ দলকে কঠিন পরিস্থিতিতেও পথ হারিয়ে ফেলতে দেয়নি।
লিগ জয়ের পর কোচ আর্টেটার কথায়, ‘আমরা শুধু একটা ট্রফি জিতিনি, আমরা একটা ইতিহাস তৈরি করেছি। এই দলটার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল, আর সমর্থকরা ছিলেন আমাদের দ্বাদশ খেলোয়াড়।’
গতকাল খেলা শেষ হওয়ার বাঁশি বাজার সাথে সাথেই এমিরেটস স্টেডিয়ামে সমর্থকরা আনন্দে ফেটে পড়েন। হাজার হাজার লাল-সাদা সমর্থক মাঠে নেমে আসেন। ‘নর্থ লন্ডন ইজ রেড’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। ক্লাব কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি থেকে শুরু করে ইয়ান রাইট সবাই সামাজিক মাধ্যমে দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিগত বছরগুলোর ব্যর্থতার গ্লানি মুছে আর্সেনাল প্রমাণ করল, ধৈর্য আর সঠিক পরিকল্পনাই সাফল্যের চাবিকাঠি। ইংলিশ ফুটবলের সিংহাসন এখন গানার্সদের দখলে, আর এই রাজত্ব সহজে শেষ হওয়ার নয়!
Comments :0