পদত্যাগের পথেই হাঁটলেন মাথাভাঙা পৌরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান। কোচবিহার জেলার বাকি ৫ পৌরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যানেরাও কি একই পথে হাঁটবেন উঠছে প্রশ্ন। তৃণমূল পরিচালিত মাথাভাঙা পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সরকার সোমবার পদত্যাগ পত্র জমা দিলেন মাথাভাঙার মহকুমা শাসকের কাছে! যদিও তিনি নিজে সশরীরে হাজির হয়ে পদত্যাগ জমা না দেওয়ায় এই পদত্যাগের আইনী সারবত্তা আছে কিনা সেটা স্পষ্ট নয়! মহকুমা শাসক নিজে সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণও করেন নি। জানা গেছে আইনী বিষয় খতিয়ে দেখছেন মহকুমা শাসক সুশোভন মন্ডল।
রাজ্যে পালাবদলের পর পৌরসভার চেয়ারম্যান আর অফিস মুখো হন নি। সমস্ত সইসাবুদ বাড়িতে বসেই করছিলেন। ১২ আসনের মাথাভাঙা পৌরসভার সব কাউন্সিলারই তৃণমূলের। ভোটের ফল প্রকাশের পর কেউই আর অফিসমুখো হন নি। সাধারণ নাগরিকেরা বাড়িতে গিয়েও কাউন্সিলারের দেখা পাচ্ছিলেন না। এক কথায় নাগরিক পরিষেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে পৌরসভার। এদিকে ১৫০ অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ থেকে আবাস যোজনার দুর্নীতি সহ একাধিক বিষয়ের তদন্ত চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিল সিআইটিইউ। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিআইটিইউ’র জেলা নেতা অসিত দাস বলেন, ‘‘ভোট লুঠ করে ১২ আসনে জিতে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন লক্ষপতি প্রামানিক। কিন্তু কিছুদিন আগেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে সঠিক উন্নয়নের কাজ না হবার কারণে লক্ষপতি প্রামানিককে সরিয়ে ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রবীর সরকারকে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেয়ারম্যান করেছিল তৃণমূল। চেয়ারে বসেই উনি ১০ টি কাজে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবার কথা সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিনে উনি কোন কাজই করেন নি। আমরা জানতে পেরেছিলাম উনি পদত্যাগ করবেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করেছিলাম, তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের জবাব দেবেন। কিন্তু উনি আগেই পেছন দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেন। প্রশাসক যদি দায়িত্ব নেয় তাঁর কাছেও দাবি থাকবে সব দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত হোক।’’
মাথাভাঙা পৌরসভার চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর জেলার তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার বাকি ৫ পৌরসভার অচলাবস্থা কাটবে কোন পথে? প্রশ্ন উঠেছে সেটা নিয়েও। দু একটি পৌরসভায় চেয়ারম্যান অফিসে গেলেও তৃণমূল কাউন্সিলারেরা অফিসমুখো হচ্ছেন না। ভেঙে পড়েছে পুর পরিষেবা। মাথাভাঙার চেয়ারম্যানের মতই কি বাকি চেয়ারম্যানেরা পদত্যাগের পথে?
Comments :0