পার্থপ্রতিম কোঙার
রক্তের দাম দিয়ে এবার সংগ্রামের সাথীকে জিতিয়ে আনবই। এই শপথ নিয়েছেন কার্তিক সার, মণিগোপাল বাগদি, সোমসের আলমরা। তাঁরা জোট বেঁধে বলছেন খণ্ডঘোষ বিধানসভায় খুনি, বালি মাফিয়াদের হাতে কিছুতেই তুলে দেবেন না। এই বিধানসভা গরিব খেতমজুর, প্রান্তিক কৃষক, শ্রমজীবী মানুষের হাতেই থাকবে।
শ্রমজীবী, গরিবের দল সিপিআই(এম), সেই দলের প্রার্থী রামজীবন রায় পেশায় একজন খেতমজুর। একদিন কাজ না করলে যাঁর হেঁসেলে হাঁড়ি চাপে না তার সঙ্গে লড়াই খন্ডঘোষের বালি মাফিয়ার। খন্ডঘোষের মানুষ বলছেন এই খেতমজুরই জিতলে তাঁদের কথা শুনবেন, তাঁদের সুখে, দুঃখে পাশে থাকবেন।
বুথ রক্ষা করতে গিয়ে ২০১৬’র বিধানসভা নির্বাচনে খণ্ডঘোষে সিপিআই(এম)’র দুই কর্মী কমরেড দুখীরাম ডাল ও কমরেড ফজলে হককে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছিল। লোদনা গ্রামে পাশাপাশি দু’টি বুথে তাঁরা দুজনই সিপিআই(এম)’র বুথ এজেন্ট হিসাবে তৃণমূলের ভোট লুট আটকাচ্ছিলেন। ভোট লুটে বাধা পেয়ে খুনের হুমকি দিলেও মাথা নত করেননি। বুক দিয়ে আগলে ছিলেন বুথ। ভোট শেষ হওয়ার পর সিল করা ব্যালট বাক্স বাসে চাপিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা রাস্তা আটকে পর পর লাঠি, টাঙ্গির কোপ বসায়। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। সেদিন এলাকার গরিব মানুষ শপথ নেন, দুই শহীদের রক্ত ব্যর্থ হতে দেবেন না। তাই এবার কার্তিক সার , মনীগোপাল বাগদি, সোমসের আলমরা জোট বেঁধেছেন। বলছেন খণ্ডঘোষ বিধানসভা কে গরিবের হাতেই রাখবো।
খণ্ডঘোষ বিধানসভা তপশিলি জাতি সংরক্ষিত। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে বিধানসভা। তার মধ্যে খণ্ডঘোষ ব্লকের ১০টি এবং ৭টি পঞ্চায়েত গলসি-২ ব্লকের। এখানে ২৭৭টি বুথ আছে। পুরুষ ভোটার ৫১.২২শতাংশ এবং মহিলা ভোটার ৪৮.৭৮ শতাংশ। সংখ্যালঘু ২৬ শতাংশ ও তপশিলী জাতি, উপজাতি ওবিসি মিলিয়ে ৫৮ শতাংশ। সিপিআই(এম) প্রার্থীর সেই অংশের মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা যাঁরা সবচেয়ে বিপন্ন।
অন্যদিকে শাসক তৃণমূলের নবীন বাগকে প্রার্থী ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল ব্লক সভাপতি ফাগুন। তিনি প্রকাশ্যে মুখ খোলেন নবীন বাগের বিরুদ্ধে। গরিব মানুষ তৃণমূলের বিধায়কের মুখ দেখেনি সারা বছর।
আর বিজেপির প্রার্থী গৌতম ধারা বিষ্ণুপুর থেকে এসেছেন। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, খন্ডঘোষের বালির খাদ থেকে সারা বছর দুই ফুলই তোলা ওঠায়। সেই টাকা ধরাও পড়েছিল পুলিশের হাতে।
খেতমজুর শিবু রায়ের বাড়ি উখরিদ পঞ্চায়েতে। তিনি জানালেন এই এলাকার ভোটারের ৭৫ ভাগ কৃষি মজুর এবং রাইস মিল শ্রমিক। দক্ষিণ দামোদরে ১০০টি রাইস মিল আছে। সবাই এখন তীব্র আর্থিক সংকটে। মজুরি কমছে। ছাঁটাই বাড়ছে। তোলাবাজি বাড়ছে। শাসক দলের দুর্নীতি আর দাদাগিরি তে মানুষ অতিষ্ঠ। লক্ষ্মীর ভান্ডার পেলেও কাজ না থাকার কারণে নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, ডাক্তার দেখাতে আর টাকা নেই। প্রতিটি সংসার মাইক্রোফিনান্সের ঋণের জালে আবদ্ধ। ১০০ দিনের কাজও বন্ধ। কৃষিকাজ কেড়ে নিয়েছে যন্ত্র। বেশি মজুরির টানে চলে যাচ্ছে ভিন রাজ্যে।
স্থানীয়েরা বলছেন পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে মাথা নত করতে হয় নি কারও কাছে। ভাগচাষি দৌলত আলি বললেন, ‘‘এখন আর চাষে লাভ হয় না। খরচ বেড়েছে বহুগুণ। আমরা তো সহায়ক মুল্যে সরকারকে ধান, আলু বিক্রি করতে পারিনা। তাই দাম পাইনা ফসলের। অভাবী বিক্রি করতে বাধ্য। বামফ্রন্ট আমলে ফসলের ভাল দাম পেতাম।’’
এবার এলাকার গরিব, খেতমজুর, বর্গা, ভাগ চাষি এবং মিল শ্রমিকরা জোট বেঁধেছেন তাঁদের সংগ্রামের সাথী লাল ঝান্ডার প্রার্থী রামজীবন রায়কে তাঁরা জিতিয়ে আনবেনই।
Comments :0