অয়নাংশু সরকার
২০০৭ সালের একটি সমাবেশে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলছেন— "বামপন্থা মানে কৃষি জমি গরিবের হাতে। রাজ্যে শিল্পায়ন করো নতুন প্রজন্মের জন্য। ছোট মাঝারি শিল্পে জোর দাও যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ কাজ পায়। বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই পশ্চিমবাংলায় কৃষিক্ষেত্রে সারাদেশে অন্যতম অগ্রগামী। কিন্তু আমরা উপলব্ধি করেছি একমাত্র কৃষির ওপর নির্ভরশীল হয়েই আমরা বেকার সমস্যার সমাধান করতে পারবো না। কৃষির সাফল্যকে ধরে রাখতে হবে। কৃষির সাফল্যকে ধরে রেখেই শিল্পে এগোতে হবে। নিজের শক্তিতে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে। নতুন শ্রমশক্তি—তরুণ অংশ—আমাদের রাজ্যের এবং আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে।”
এই বক্তব্যের মধ্যেই প্রতিফলিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি— কেবল কৃষির উপর নির্ভর করে একটি সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষি যেমন মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনই শিল্প অর্থনীতিকে গতিশীল করে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষত ক্রমবর্ধমান তরুণ জনসংখ্যার জন্য শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রের বিস্তার অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই ছোট ও মাঝারি শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষের হাতে কাজ পৌঁছে দেওয়া যায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছায়। উল্লেখ্য, উন্নয়নের ধারাবাহিক পথ ধরেই ১৯৭৭ থেকে পথ চলেছে, বহু বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—নিজস্ব শক্তির উপর ভর করে উন্নয়নের পথ খুঁজে নেওয়ার আহ্বান। অর্থাৎ উন্নয়নের পথ এমন হতে হবে যা মানুষের শ্রমশক্তিকে মর্যাদা দেয়, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগায় এবং সমাজের বৃহত্তর অংশকে উন্নয়নের অংশীদার করে তোলে। সেই প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান শক্তি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এখন ভারতের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই তরুণ। সময়ের সাথে সাথে তাদের সংখ্যাও বাড়ছে। গলা ফুলিয়ে বলা হয়েছিল “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট”—তরুণদের সংখ্যা বেশি হওয়ার সুবিধা ঘরে তুলবে দেশ। কিন্তু বাস্তব ছবি সম্পূর্ণ উল্টো। আজ বেকারত্বের সর্বোচ্চ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে আমাদের দেশ। দেশ গড়ার কাজে যে কর্মবীরদের ভূমিকা নেওয়ার কথা, তারাই আজ কর্মহীন।
সারাদেশের গড় বয়স এখন প্রায় ২৮ বছর— যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ বিপুল শ্রমশক্তি আমাদের দেশে রয়েছে। কিন্তু সেই শ্রমশক্তির জন্য নেই পর্যাপ্ত কাজ, নেই কাজের স্থায়িত্ব, নেই নিরাপত্তা। ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে যুবসমাজের জীবন।
বর্তমান সময়ে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে যে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকা উচিত ছিল, তা ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। একদিকে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই শিক্ষিত যুবদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। হাজার হাজার তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে, কিন্তু তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কাজের সুযোগ নেই। শিক্ষা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং বেসরকারিকরণের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। “স্কিল ডেভেলপমেন্ট”-এর নানা প্রকল্পের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারছে না। ফলে শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যেও এক গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বেকারদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই পরিকল্পনার অভাবের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আরেকটি পরিকল্পনা। কর্পোরেটদের স্বার্থে, মালিকদের স্বার্থে—কারখানা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গেটে বেকার যুবকদের লাইন লাগিয়ে রাখো, যাতে অল্প পয়সায় শ্রমিক পাওয়া যায়। আবার বেকারত্বের তীব্র জীবনযন্ত্রণাকে ব্যবহার করে যুবসমাজকে চেতনাহীন করে তোলা হচ্ছে, বিপথগামী করা হচ্ছে, লুটেরা বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে, ভোট লুটের যন্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বেকারত্বের প্রকৃত প্রশ্নকে আড়াল করতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিকেও উসকে দেওয়া হচ্ছে। ধর্ম, জাতপাত ও পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে এনে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মন্দির-মসজিদের বিতর্ক, ঘৃণার রাজনীতি ও উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রচারের মাধ্যমে যুবসমাজকে প্রকৃত সমস্যার দিক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অথচ কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও জীবিকার প্রশ্নই হওয়া উচিত ছিল জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তরুণদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ থাকে। কিন্তু সেই আবেগ যদি বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবোধের সঙ্গে যুক্ত হয়, যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়— তাহলে এই তরুণরাই দেশ গঠনের কাজে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। বামপন্থী সরকারের লক্ষ্য ছিল এটাই— কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ শ্রমশক্তিকে মর্যাদা দেওয়া এবং তাদের কাজের সুযোগ তৈরি করে রাজ্যের অগ্রগতি ঘটানো। একইসাথে তরুণদের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনা গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমান রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসকরা এই তরুণ প্রজন্মকেই চেতনাহীন করে তুলতে চায়।
আজ ব্যাঙ্ক, বিমা, রেল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ শূন্য পদ পড়ে রয়েছে। রাজ্য সরকারি দপ্তরেও কার্যত কোনও নিয়োগ নেই। অথচ বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন সহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত ও স্বচ্ছ নিয়োগ হয়েছে।
বর্তমানে সামান্য যে নিয়োগ হচ্ছে, তাতেও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বেকার যুবসমাজ প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বিক্রি করা হচ্ছে, কর্মী ছাঁটাই চলছে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র ক্রমশ সঙ্কুচিত করা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক, বিমা, বিমান পরিবহণ, রেল সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রকে বেসরকারিকরণের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সেনাবাহিনীতেও ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে “স্টার্টআপ” ও “স্বনিযুক্তি”-র নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে যুবদের চাকরি খোঁজার পরিবর্তে চাকরি সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা চালানো আজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। বড় কর্পোরেট সংস্থার প্রতিযোগিতা, বাজারের অনিশ্চয়তা ও ঋণের বোঝার মধ্যে বহু ছোট উদ্যোগ কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে চাকরির দায় থেকে সরকার নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে এবং সেই দায় চাপিয়ে দিচ্ছে যুবদের উপর।
রাজ্যে কাজের আকাল এতটাই তীব্র যে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছে। গ্রামের মহিলারাও পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। গ্রামের পর গ্রাম প্রায় যুবশূন্য হয়ে যাচ্ছে। ভিড়ে ঠাসা জেনারেল কামরায় ঝুলতে ঝুলতে আমাদের বাংলার যৌবন প্রতিদিন কাজের খোঁজে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছুটে যাচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন বাংলার বহু মহিলা ধান রোপণের কাজেও যাচ্ছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন অত্যন্ত কঠিন। ছোট ছোট ঘরে ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয়। নিজের পরিবার ছেড়ে দূরে থাকতে হয় শুধু কিছু টাকা উপার্জন করে বাড়িতে পাঠানোর জন্য।
আবার অন্যদিকে প্রতিদিন ভোরবেলা অনেক যুব মোটর ভ্যানে চেপে স্টেশনে আসে, সেখান থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে এসে দাঁড়িয়ে থাকে— যদি কোনো কাজ জোটে। কোনোদিন কাজ পাওয়া যায়, কোনোদিন পাওয়া যায় না। যেদিন কোনো কাজ পাওয়া যায় না, সেদিন শুকনো মুখে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরতে হয়। বাড়িতে ঢুকেও ভাবতে হয়— পরিবারকে কী বলবে।
বেকারত্বের এই যন্ত্রণা কতটা গভীর ও অসহনীয় তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
গিগ অর্থনীতির কর্মীদের জীবনও ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। উৎপাদনমুখী শিল্প ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি থেকে সরে এসে ফাটকা অর্থনীতির দিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিপুল ঋণ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার ব্যবসা বাড়ছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন—অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা— মানুষের শ্রমকে মুক্ত করার বদলে অনেক ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অথচ এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছানোর বদলে কয়েকটি বড় কর্পোরেট সংস্থার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।
নারী শ্রমের ক্ষেত্রেও একই সঙ্কট দেখা যাচ্ছে। গ্রাম ও শহর—উভয় ক্ষেত্রেই নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা অস্থায়ী ও অনিরাপদ কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও কম মজুরি তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণদের একটি বড় অংশেরই স্থায়ী কর্মসংস্থান নেই। গত ১৪–১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে যোগ্যতা-ভিত্তিক বড় শিল্প কার্যত গড়ে ওঠেনি। অথচ বামফ্রন্ট সরকারের পরিকল্পনায় বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের মতো শিল্প প্রকল্পে বহু দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থায়ী পদ তুলে দিয়ে ঠিকা কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে বেকারত্ব আরও বাড়ছে। রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই সরকারের নীতির মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। বাজেট প্রকাশিত হয়, কিন্তু সেখানে স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনও সুস্পষ্ট লক্ষ্য থাকে না। আসলে কর্পোরেট পুঁজির দালালি করা এই শাসকরা বেকারত্বের যন্ত্রণাকে জিইয়ে রাখতে চায় নিজেদের স্বার্থে ও কর্পোরেটদের স্বার্থে। দুই শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই চাই তীব্র। শাসকের অপকৌশলের রাজনীতিকে পরাস্ত করতেই হবে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পরিবেশকে ফেরাতে হলে বামপথে হাঁটতে হবে।
১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার সাধারণের সংগ্রামের দাবিগুলিই নীতির রূপ পেতে শুরু করেছিল। অবৈতনিক শিক্ষার বিস্তার, শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠা, নিয়মিতভাবে সরকারি চাকরির পরীক্ষা নেওয়া, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি— এই সব ক্ষেত্রেই বামফ্রন্ট সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল। সেই সময়ে কর্মসংস্থান ও শিক্ষাকে সামাজিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হতো, এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসাবে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হতো। আজকের যুবসমাজের কাছে সেই ইতিহাস এবং সেই অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি, কারণ তা প্রমাণ করে— সঠিক রাজনৈতিক দিশা ও গণআন্দোলনের শক্তি থাকলে পরিবর্তন সম্ভব।
আজকের পরিস্থিতিতে যখন কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি পরিচালিত হচ্ছে, যখন বেকারত্বের যন্ত্রণা ক্রমশ বাড়ছে, তখন আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থের রাজনীতিই একমাত্র বিকল্প হতে পারে। যে রাজনীতি কর্পোরেটদের মুনাফার কথা নয় বরং শ্রমজীবী মানুষের কাজের অধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারকে সামনে রাখে— সেই রাজনীতিই পারে দেশের কর্মক্ষম মানুষের হাতে কাজ তুলে দিতে। সেই কারণেই আজ আবার প্রয়োজন বামপথে এগিয়ে যাওয়ার। বাংলাকে আবার সেই পথেই ফিরিয়ে আনতে হবে, যে পথ মানুষের অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়ের কথা বলে। এই সংগ্রামে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে, বাংলার বর্তমান যুব সমাজ সেই পথেই অগ্রণী হবে।
Bengal Election and Youth
অনিশ্চিত যুব জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর ভোট
×
Comments :0