তপন বিশ্বাস ইসলামপুর
দীর্ঘ ১৩ বছর পর মাটিকুন্ডায় সিপিআই(এম)’র পার্টি অফিস পুনরায় চালু হওয়া শুধু একটি সাংগঠনিক ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একপ্রকার প্রতীকী প্রতিবাদ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যে অফিস একসময় সাধারণ মানুষের ভিড়ে মুখর থাকত, সেটিই ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের সময়ে তৃণমূলের সন্ত্রাসের কারণে বন্ধ হয়ে যায়—এই ইতিহাস আবার সামনে নিয়ে এলেন সামী খান।
সোমবার প্রচারের মধ্যেই সেই বন্ধ অফিসের তালা খোলা হয়। পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন ইসলামপুর ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক আব্দুল করিম। এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, এতদিন যে ভয় এবং চাপা আতঙ্কের পরিবেশ ছিল, তা কাটিয়ে আবারও সংগঠন মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিন মাটিকুন্ডা সহ আশেপাশের এলাকায় পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করেন সামি খান। প্রচারের ফাঁকে তিনি সরাসরি শাসক দলকে নিশানা করে বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা, ভয় দেখানো, এসব করে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা যায় না।’’ তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছেন এবং সেই কারণেই তারা ক্রমশ সিপিআই(এম)’র দিকে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের পর থেকে এলাকায় বিরোধী রাজনীতি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনের আগে সেই পরিস্থিতিতে কিছুটা বদল এসেছে। সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণেই এই পার্টি অফিস পুনরায় চালু সম্ভব হয়েছে বলে দাবি সিপিআই(এম) নেতৃত্বের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এটি শুধুমাত্র একটি অফিস খোলা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন উদ্দীপনা ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়। পার্টি অফিস উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা স্বপন গুহ নিয়োগী, গৌতম বর্মন, বাবন পাল সহ আরো কর্মী সমর্থকেরা।
Comments :0