Bengal Polls Phase 2

দ্বিতীয় দফায় শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মরিয়া কমিশন

রাজ্য

দ্বিতীয় দফায় ৭ জেলায় ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ হবে। এই পর্বকে নিশ্ছিদ্র ও শান্তিপূর্ণ করতে ময়দানে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে মোতায়েন করা হবে। কমিশন সূত্রে খবর প্রায় ১৬,০০০ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। নির্বাচনী কর্মী সংকট মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে কমিশন হিঙ্গলগঞ্জ থানা এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় পাঁচজন নতুন পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সেখানকার অফিসারদের বরখাস্ত করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় দফায় মোট বুথ রয়েছে ৪১ হাজার। এর মধ্যে সহায়ক বুথ রয়েছে ১৭০০টি। দ্বিতীয় দফায় নতুন ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে শুধু উত্তর ২৪ পরগণা জেলাতেই ৭১ হাজার নতুন ভোটারের নাম উঠেছে। কলকাতায় নতুন ভোটার সংযোজিত হয়েছেন ৪৪ হাজার। এই দফায় ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন।
রবিবার নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা পুলিশকে সতর্ক করেছে। কমিশন জানিয়েছে,  ভোটের দিনে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের মতো অবহেলার ফলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকে অফিস সূত্র জানিয়েছে, ‘‘পুলিশ আধিকারিকদের অবশ্যই তাদের এলাকায় বিস্ফোরক ব্যবহার বা ভোটারদের ভয় দেখানোর যেকোনো ঘটনা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এই ধরনের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসার-ইন-চার্জ বা ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অফিসার-ইন-চার্জ এবং ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জদের এই ধরনের ক্ষেত্রে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’’ কালীঘাট সহ কলকাতা পুলিশের একাধিক থানায় ওসি’দের বদলে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। কালীঘাট থানার নতুন ওসি হচ্ছেন পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর গৌতম দাস। শুধু কালীঘাট নয়, আরও কয়েকটি থানার দায়িত্বেও রদবদল হয়েছে। দক্ষিণ বিভাগের ইন্সপেক্টর সুব্রত পাণ্ডেকে আলিপুর থানার ওসি করা হয়েছে। স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর উৎপল পার্ককে কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি চামেলি মুখার্জিকে উলটোডাঙা মহিলা থানার ওসি পদে পাঠানো হয়েছে। হাওড়ার লিলুয়া এবং বেলুড় থানার ওসিকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। লিলুয়ার নতুন ওসি হচ্ছেন সুজয় টুঙ্গা। বেলুড়ের ওসি হচ্ছেন দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। আজ রাত ১০টার মধ্যে তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। 
দ্বিতীয় দফাকে সামনে রেখে নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করতে বড়সড় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। লালবাজারের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২৯ এপ্রিলের ভোটে রাজ্য জুড়ে মোতায়েন করা হবে মোট ৩৮,২৯৭ জন পুলিশকর্মী। সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে কলকাতা পুলিশ এলাকায়, ৭,২৪১ জন। ভোটের দিনে শহরের স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বাহিনী পৌঁছনোর প্রক্রিয়া ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। প্রতিটি জেলায় একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাঁরা গোটা ব্যবস্থাপনার তদারকি করবেন। এছাড়া শুধু বুথ বা বুথ সংলগ্ন এলাকাই নয়, এবার বুথ‌মুখী সব রাস্তার মোড়ে ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত‌ নিয়েছে কমিশন। মূলত ঘিঞ্জি বা ঘনবসতি এলাকায় যে সমস্ত বুথ থাকবে সেই সমস্ত বুথের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা এবং হাওড়ার ক্ষেত্রেই প্রাথমিকভাবে রাস্তায় এই অতিরিক্ত ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

Comments :0

Login to leave a comment