West Bengal Election Purulia

আজও লাল ঝান্ডা কাঁধে পুরুলিয়ার শহীদ পরিবারের সদস্যদের

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

ভাস্কর দাশগুপ্ত: পুরুলিয়া
পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল ছিল একসময় লাল দুর্গ। এক সময়ের সেই লাল দুর্গে মাওবাদীরা নির্বিচারে খুন করেছিল সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকদের। পুরুলিয়া বান্দোয়ান এবং বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৩৬ জন সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থক নিহত হয়েছিলেন মাওবাদীদের হাতে। একজন আইসিডিএস কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের সেই শহীদ পরিবারের সদস্যরা আজও রয়েছেন লাল ঝান্ডাকে কাঁধে নিয়ে। সোমবার পুরুলিয়ার বরাবাজারের বেলডি মাঠে বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী রথু সিংসর্দার এবং বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী নমিতা মাহাতোর সমর্থনে হয় নির্বাচনী জনসভা। ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায় চৌধুরী জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় সহ অন্যান্যরা। গ্রামে ছৌ নাচের আসরে মাওবাদীরা মেরেছিল বৈকুণ্ঠ মাহাতোকে। সেই বৈকুণ্ঠ মাহাতোর ছেলে গঙ্গাধর মাহাত জানিয়ে গেলেন সেদিনের সেই ক্ষতিপূরণের তিন লাখ টাকা আজও পায়নি। তিনি তাঁর পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছেন যতদিন বাঁচবেন সিপিআই(এম) করবেন। পরিবারের আর কেউ যেন সিপিআই(এম) ছাড়া অন্য কোন দল না করে। নির্বাচনী জনসভায় হাজির ছিলেন বলরামপুরের বেরসা গ্রামের শহীদ হারাধন মাঝির ভাইপো চন্দ্রশেখর মাঝি, বান্দোয়ানের পাঁড়রা গ্রামের শহীদ গণেশ সিং’র ভাইপো বিনোদ সিং। নকুল সিং এর সাথে সেদিন রাত্রে মাওবাদীরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল সুখদেব মান্ডি কেও। তাঁকেও মারধর করা হয়েছিল। মরার মতো পড়ে থেকে কোনো রকমে তিনি প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। তিনিও এদিন হাজির থেকে জানিয়ে দিলেন যতদিন বাঁচবেন এই লাল ঝান্ডার ধরেই বাঁচবেন। 
জনসভায় সেলিম বলেন দেশ সর্বনাশের পথে যাচ্ছে। মানুষ মারার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বেঁচে থাকার খরচ বাড়ছে। অথচ আয় কমছে। বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে এই রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের বদলে ২০০ দিনের কাজ শুরু করা হবে। মজুরি করা হবে ৬০০ টাকা। প্রত্যেক পরিবারের একজনকে কাজ দেওয়া হবে। প্রত্যেক বছর এসএসসি, মাদ্রাসা স্কুল সার্ভিস কমিশন চালু করা হবে। সমস্ত বন্ধ হয়ে থাকা আদিবাসী হোস্টেল খোলা হবে। বন্ধ হয়ে থাকা স্কুল চালু করা হবে। সেলিম বলেন, এই সরকার চাকরির নামে দুর্নীতি করেছে। প্রতিশ্রুতি ছিল চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু দিয়েছে শুধু ভাতা। তিনি বলেন, আমরা দাবি করেছিলাম আরজি করের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, আরজিকরের মাথা ধরো। আজকে প্রমাণিত তৃণমূল সেদিন যা বলেছিল, বিজেপিও সেটাই বলেছে। লাল ঝান্ডাকে কোনদিন শেষ করা যায়নি, করা যাবেও না। তিনি বলেন, বাংলা না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। 
আভাস রায়চৌধুরী বলেন লড়াইয়ের মাটি থেকে উঠে আসা প্রার্থী রথু সিং সর্দার এবং নমিতা মাহাতো। একসময় এই রাজ্য ছিল আকালের রাজ্য। বামপন্থীরা ক্ষমতায় আসার পর ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করেছিল। গরিব মানুষের হাতে জমি তুলে দিয়েছিল। জনগণের পঞ্চায়েত তৈরি করেছিল। দিল্লি সাথ না দিলেও মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। এ রাজ্যে এখন ১৮ থেকে ৪০ বছরের যুবকরা কাজ না পেয়ে পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে। সব সরকার কেরালার বাম সরকার নয়। কেরালার সরকার পরিযায়ী শ্রমিক বলেন না। তারা বলেন অতিথি শ্রমিক। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ দেবার জন্য পশ্চিমবাংলায় কারখানা গড়ে তুলতে হবে। সেদিন মাওবাদী কারা ছিল আজ তা প্রমাণিত। ১৫ বছর ধরে বাংলা শুধু মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। কেউ নেই শ্রমিকের পাশে, কেউ নেই কৃষকের পাশে। রাজ্যকে বাঁচাতে হবে। রাজ্যে বেকারদের বাঁচাতে চাই বাম সরকার। একই থালায় ভাত খাচ্ছে তৃণমূল এবং বিজেপি। এদের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতেই হবে। বাংলার ভবিষ্যৎ কে বাঁচাতে হবে। আর তার জন্য দরকার বামফ্রন্ট সরকার।

Comments :0

Login to leave a comment