টানা দ্বিতীয়বার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত বিধায়ক দলের সভায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক জেপি নাড্ডা হিমন্তের নাম ঘোষণা করেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আগামী ১২ মে গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। বিধায়ক দলের সভার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, ‘‘বিধায়ক দলের নেতার পদের জন্য মোট আটটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রথম প্রস্তাবটি এসেছে রঞ্জিত কুমার দাসের কাছ থেকে, দ্বিতীয়টি বিশ্বজিতের কাছ থেকে, তৃতীয়টি অজন্তা নিওর কাছ থেকে, চতুর্থটি রামেশ্বর তেলির কাছ থেকে, পঞ্চমটি রাজদীপ রায়ের কাছ থেকে, ষষ্ঠটি অশোক সিংঘলের কাছ থেকে, সপ্তমটি পীযূষ হাজারিকার কাছ থেকে এবং অষ্টমটি চক্রধর গগৈয়ের কাছ থেকে।’’ নাড্ডা আরও জানান যে, আটটি প্রস্তাবই আমাদের দুজন বিধায়ক সমর্থন করেছেন। আমাদের এনডিএ-র সমস্ত বিধায়ক এখানে উপস্থিত আছেন। অতুল বোরাও তাঁর প্রস্তাব জমা দেন। সমত্থনকারি দলগুলোর নেতা ও বিধায়করাও তাঁদের সমর্থন করেন। এই সমস্ত প্রস্তাবে একই নাম ছিল। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেই সূত্রে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচিত হন।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আসামে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি-জোট। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার তাদের ভোট ও আসন দুই-ই বেড়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-জোট ৭৫টি আসন পেয়েছিল। এবার ১০২টি আসনে জয়লাভ করেছে তারা। বিজেপি একা দখল করেছে ৮২টি আসন। গত নির্বাচনে বিজেপি’র দখলে ছিল ৬০টি আসন। এবার বিজেপি’র শরিক অগপ পেয়েছে ১০টি আসন ও বিপিএফ ১০টি আসন দখল করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী-জোট অত্যন্ত খারাপ ফল করেছে। মাত্র ২১টি আসনে জয়ী হয়েছে বিরোধী জোট। আগেরবারের চেয়ে ২৯টি আসন কম। এর মধ্যে কংগ্রেস ১৯টি ও রাইজর দল ২টি আসন পেয়েছে। তাছাড়া, ইউডিএফ একা লড়ে ২টি ও তৃণমূল কংগ্রেস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে। শতাংশের হিসেবে বিজেপি জোটের ঝুলিতে ৪৮.০১ শতাংশ ভোট পড়েছে; যা আগেরবারের তুলনায় ৩.৫০ শতাংশ বেশি। বিজেপি একা পেয়েছে ৩৭.৮১ শতাংশ। আগেরবার বিজেপি পেয়েছিল ৩৩.২১ শতাংশ। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের আসন কমলেও শতাংশের হিসেবে তাদের ভোট সামান্য বেড়েছে। গত নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল ২৯.৬৭ শতাংশ ভোট। এবার তারা ২৯.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা ২০২১ সালে ১ লক্ষ ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও এবার তাঁর জয়ের ব্যবধান কমেছে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশা নিয়োগকে ৮৯ হাজার ৪৩৪ ভোটে পরাস্ত করেছেন। বিজেপি’র সব মন্ত্রীরা জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছেন। এবছর বিরোধী জোটের সমর্থনে সিপিআই(এম) দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তবে দু'টিতেই পরাজিত হয়েছে। আগেরবার সরভোগ আসনে দলের প্রার্থী মনোরঞ্জন তালুকদার জয়ী হলেও এবার তালুকদার বিজেপি প্রার্থী রঞ্জিত দাসের কাছে ৩৯ হাজার ১৫২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তালুকদার ৭৩ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন। গহপুর আসনে সিপিআই(এম) প্রার্থী বাপুরাম বোড়ো ২৮ হাজার ২৭৩টি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এই আসনেও বিজেপি জয়ী হয়েছে। বিজেপি’র পূর্বের শরিক ইউপিপিএল ও বিরোধী জোটের অন্যতম শরিক আসাম জাতীয় পরিষদ খাতা খুলতে পারেনি।
বিজেপি’র ভালো ফলের পেছনে নিখুঁত রণকৌশল, নির্বাচনের প্রাকমুহুর্তে আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা পাঠানো ও অরুণোদয় প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মাসে ১২৫০ টাকা করে যে টাকা দেওয়া হতো তা পাঁচ-ছয় মাস বন্ধ রেখে নির্বাচনের আগে একসঙ্গে চার-পাঁচ মাসের টাকা পাঠানো, বেছে বেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেকার যুবক-যুবতীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার করে টাকা পাঠানো বিজেপি’র পক্ষে ভোট পেতে সাহায্য করেছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার যে গরিব মানুষের উপর আরও নির্মমভাবে বুলডোজার-রাজ চালাবে, তাঁর আভাস দিয়ে রেখেছেন শর্মা।
Assam
১২ মে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
×
Comments :0