M A Baby

দায়ী মমতার অপশাসন, কমিশনের নির্লজ্জ অপব্যবহারও: বেবি

জাতীয় রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র জয় সারা দেশের গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির কাছে বড় ধাক্কা। মমতা ব্যানার্জির সরকারের অপশাসনের পাশাপাশি দায়ী কমিশনের অপব্যবহারও। কেন্দ্রের সরকারে আসীন বিজেপি নির্লজ্জ অপব্যবহার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। সোমবার নয়াদিল্লিতে একে গোপালন ভবনে পলিট ব্যুরো বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।
বেবি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র জয় সারা দেশের গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির কাছে বড় ধাক্কা। বিজেপি ব্যাপক মাত্রায় সমর্থন পেয়েছে।
তাঁর ব্যাখ্যা, তৃণমূলের অপশাসনের মাত্রা মারাত্মক ছিল। মমতা ব্যানার্জি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। এই সরকারের কুখ্যাত দুর্নীতি জনতার ক্ষোভ তীব্র করেছিল। সমাজের সাধারণ অংশের মহিলাদের সুরক্ষা দিতে না পারা, আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে নির্বাচনে।
সেই সঙ্গে বেবি বলেন, ‘‘কিন্তু প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার পাশাপাশি কেন্দ্রের সরকারে আসীন বিজেপি নির্লজ্জ কায়দায় নির্বাচন কমিশন সহ কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করেছে, সেটিও কারণ এই ফলাফলের। যেভাবে এই রাজ্যে এসআইআর হয়েছে তাতে লক্ষ্য ছিল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া। এই রাজ্যেই বিশেষ মাপকাঠি তৈরি করা হয় ভোটার তালিকা সংশোধনে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’।
বেবি বলেন, সুপ্রিম কোর্টও জিজ্ঞেস করেছিল অন্য রাজ্যে নেই তা’হলে পশ্চিমবঙ্গে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি কেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল, কোনও কেন্দ্রে হারজিতের ব্যবধানের চেয়ে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতিতে নাম বাদের সংখ্যা বেশি হলে কিভাবে ফলাফলকে সঙ্গত বলা যাবে! কেবল যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতিতে বাদ নামের সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ২৭ লক্ষের বেশি। 
গোটা দেশে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আসামেও এমন বিষয় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে ভোটে জেতার জন্য কমিশনকে ব্যবহারের উদাহরণ দেখা গিয়েছে। 
নির্বাচন কমিশন যাঁকে পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করেছে। তা থেকেও এই মনোভাব বোঝা যায়।
বেবি বলেন, শ্রম কোড বিজ্ঞপ্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে পলিট ব্যুরোতে। ভোটের জন্য এই শ্রমিক বিরোধী আইনের বিজ্ঞপ্তি ১ এপ্রিল থেকে পিছিয়ে দেয়। ভোটের ফল বেরনোর চারদিন পরই বিজ্ঞপ্তি জারি হলো। এই শ্রম কোড শ্রমিক শ্রেণিকে সংগঠিত হতে সব রকম বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার ওপরও বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। অথচ দিল্লির কাছেই নয়ডার মতো এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে ন্যূনতম মজুরি এবং চরম শোষণের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। সিপিআই(এম) সাংসদরাও গিয়েছেন। এখনও ২ হাজার শ্রমিক জেলে। পলিট ব্যুরো দাবি জানিয়েছে দ্রুত তাঁদের ছাড়তে হবে।
তিনি বলেন, মোদীর ব্যয় সঙ্কোচন নীতি অনেকটাই শ্রীলঙ্কায় রাজাপক্ষে শাসনের মতো। রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহার বা বিদেশ সফর কাটছাঁটের কথা বলেছেন তিনি। ২০১৪ সালেই তিনি ৯৯ দেশে গিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে যে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের জীবনজীবিকায় আঘাত করার আগে জমি তৈরি করছেন প্রধানমন্ত্রী। 
বেবি বলেন, মহিলা সংরক্ষণের নামে ডিলিমিটেশন কমিশন করে উত্তর ভারতের জন্য আসন বাড়িয়ে নিতে চেয়েচিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যে আনা বিল পরাজিত হয়েছে লোকসভায়। উত্তর ভারতে, যেখানে সঙ্ঘের প্রভাব বেশি, সেই রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব নির্ণায়ক মাত্রায় বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল। যাতে ‘হিন্দুরাষ্ট্র‘ বা ‘অখন্ড ভারত’-র মতো লক্ষ্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়। 
সংসদে বিরোধীদের ঐক্য মোদী সরকারের এই বিলকে পরাজিত করেছে। তবে বিরোধীদের সতর্ক থাকতে হবে ভবিষ্যতেও 
 

Comments :0

Login to leave a comment