Madhyamik result 2026

প্রকাশিত হল মাধ্যমিকের ফল, মায়ের লড়াইকে সার্থক করল প্রথমস্থানাধিকারী অভিরূপ

রাজ্য জেলা কলকাতা

মায়ের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী অভিরূপ ভদ্র। ছবি- বিশ্বনাথ সিনহা

পূজা বোস 

বাবার মৃত্যুর পর মা একাই লড়াই করে বড় করেছে তাঁকে। সেই লড়াই যেন এক অন্যরকম সাফল্য অর্জন করলো আজ। ছয় বছর আগে, ২০২০ সালে শারিরীক অসুস্থতার কারণে মারা গিয়েছিল বাবা। বাবা ছিলেন ঠিকা শ্রমিক, মা রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের সিস্টার। সেই শ্রমিক সন্তানই আজ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম। উত্তর দিনাজপুর রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যা মন্দিরের ছাত্র অভিরূপ জানালেন তার প্রতি শিক্ষকদের যত্নই আজ তাঁকে এই সাফল্য পেতে সাহায্য করেছে ।
ঘড়ি ধরে নয়, যখন যেমন ইচ্ছা তেমন পড়াশোনা করেই মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছেন দ্বিতীয় স্থান অধিকারী প্রিয়তোষ মুখার্জি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলা দেখতেও ভালোবাসে সে, পছন্দের ক্রিকেটর বিরাট কোহলি। শুনতে ভালোবাসে অরিজিৎ সিং-এর গান ও । ভবিষ্যতে হতে চান আইআইটি ইঞ্জিনিয়ার।

এইবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয় ২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষা শেষের ৮৪ দিনের মাথায় প্রকাশিত হল মাধ্যমিকের ফল। তবে প্রথম ১০ এবার ও নেই কলকাতা । এবছর মোট ৯, ৫৩,৭৫৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তার মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৪, ২৩, ১০৩ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৫,৩০, ৬৫০ জন । অর্থাৎ ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী সংখ্যা ২৫.৪১ শতাংশ বেশি। 


এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মোট পাশের হার ৮৬. ৮৩%। গত বছর পাশের হারছিল ৮৬. ৫৬ শতাংশ, অর্থাৎ এবারও বেশ কিছুটা বেড়েছে পাশের হার। এই বছর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের পাশের হার ৭৬. ৪৩%। পাশাপাশি তপশিলি জাতির অন্তর্গত পরীক্ষার্থীদের পাশের হার ৮৫. ৮০%, সেই সঙ্গে তফশিলি উপজাতি ও আদিবাসী ( ST) অন্তর্গত পরীক্ষার্থীদের পাশের হার ৭৬.৮৯%। শতাংশের হিসাবে জেলাগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি পাশের হার কালিম্পং-এ ( ৯৫. ১০ %) । এরপরেই, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাশের হার ৯৪. ৮২% , কলকাতা জেলার পাশের হার  ৯২. ৩১% এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাশের হার ৯১. ৪০ শতাংশ। 


এইবছর ১৯ টি  জেলার ৩৮ টি স্কুলের ১৩১ জন পরীক্ষার্থী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে।। এরমধ্যে ১০৩ জন ছাত্র ও বাকি ২৮ জন ছাত্রী। 
প্রথম স্থান অধিকারী দক্ষিণ দিনাজপুর রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যা মন্দিরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্রের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৮ ( ৯৯.৭১%) । দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বীরভূমের সরোজিনী দেবী সরস্বতী শিশু মন্দির স্কুলের প্রিয়তোষ মুখার্জি'র প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬। তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ২ জন এবং বাঁকুড়ার ১জন। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের সৌর জানা,  রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দির স্কুলের অঙ্কন কুমার জানা এবং বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজিয়েট স্কুলের মৈনাক মন্ডল । এঁদের প্রত্যেকেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫।  চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে ৪ জন, পাশাপাশি পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে ৭ জন ।

Comments :0

Login to leave a comment