দক্ষিণ দমদম পৌরসভার দায়িত্বে থাকার সময় মোটা টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইডি কলকাতার ছ’টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায়, যার মধ্যে ছিল সুজিত বসুর বাড়ি ও অফিস। সেই তল্লাশিতে নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত হয়। পৌরসভা নিয়োগ কেলেঙ্কারির তদন্তের শুক্রবার ইডি শুক্রবার রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বোসকে প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সুজিত বোস এদিন সকাল সাড়ে দশটার কিছু আগে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে সমুদ্র এবং দুজন আইনজীবী। দীর্ঘ জেরার পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পরে ইডি অফিস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বোস বলেন,
"সবাই জানেন কেন আমায় ডাকা হয়েছিল। যে বিষয়ে আমায় ডাকা হয়েছিল, সেই মামলায় সিবিআই ইতিমধ্যে চূড়ান্ত চার্জশিট দিয়ে দিয়েছে। ইডির তরফ থেকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছিল আমায়। আমি আধিকারিকদের সহযোগিতা করেছি , তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তারা আমাকে আবার ডাকলে আমি অবশ্যই আসব।
তাঁর বক্তব্য বিষয়টি যেন হেনস্থার পর্যায়ে না যায়।"
এর আগে তিনি নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনবার হাজির এড়িয়ে যান। তিনবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও ইডি-র সামনে হাজির হননি। তিনি ইডির সমনকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদনও করেছিলেন। হাইকোর্ট তাঁকে শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সুজিত বোস ও তাঁর ছেলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে দুইবার তল্লাশি চালিয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, এই তল্লাশির সময় তারা আপত্তিকর নথি উদ্ধার করেছেন।
সুজিত বসুকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় দিনকে দিন চড়ছেই। অভিযোগের মূল কেন্দ্র দক্ষিণ দমদম পৌরসভা। সেখানে দায়িত্বে থাকার সময় মোটা টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তল্লাশি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইডি কলকাতার ছ’টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায়, যার মধ্যে ছিল সুজিত বসুর বাড়ি ও অফিস। সেই তল্লাশিতে নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত হয়। বিপুল নগদের উৎসের সন্ধান ইডি’র নজরে সুজিত বসু।
আর্থিক বেনিয়মের হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়েই ইডি’র তদন্তে জড়িয়েছে তাঁর পরিবারে। এর জেরে বিদায়ী বিধায়কের স্ত্রী থেকে ছেলে সবাই জেরার সমন পেয়েছেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, তল্লাশি অভিযান চলাকালে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছেন। এই অভিযোগ অস্বীকার করে বসু দাবি করেন তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
Municipality Recruitment Scam
পৌরসভা নিয়োগ কেলেঙ্কারি, সুজিত বসুকে দীর্ঘ জেরা ইডি'র
×
Comments :0