‘বুলডোজার রাজ নয়, কোনও বিভাজন নয়, চাই হকারদের রুজি-রুটির সুরক্ষা'। মঙ্গলবার এই দাবিতে দৃপ্ত মিছিলে পা মেলালেন কয়েকশো হকার।
সিআইটিইউ অনুমোদিত কলকাতা স্ট্রিট হকার্স ইউনিয়নের কলকাতা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। বড়বাজার এলাকার ক্যানিং স্ট্রিট থেকেই মিছিল শুরু হয়ে বড়বাজার থানা পর্যন্ত এই মিছিল হয়। হকারদের স্পষ্ট দাবি, বুলডোজার রাজ নয়। কেন্দ্রীয় হকার আইন কার্যকর করতে হবে, হকারদের উচ্ছেদ করা চলবে না।
হকার উচ্ছেদ নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ স্ট্রিট হকার্স ফেডারেশন। এর আগেও ওই বড়বাজার চত্বর থেকেই কলকাতা কর্পোরেশন অব্দি মিছিল করেছে সংগঠন।
গত চার মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই বিজেপি তাদের ক্ষমতা জাহির করতে নেমে পড়ে। বুলডোজার নিয়ে একাধিক জায়গায় বিজয় মিছিল করে। বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় নিউ মার্কেটের কিছু অস্থায়ী হকারদের ডালাও।
উত্তর প্রদেশের কায়দায় বুলডোজারকে ভয়ের রাজনীতির প্রতীক করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু এই ভয়কে ভেঙেই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছে সিআইটিইউ।
পশ্চিমবঙ্গ স্ট্রিট হকার্স ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক অসিতাঙ্গ গাঙ্গুলি এদিন বলেন, "বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে বাংলার মানুষ। বিজেপি রাজ্যে নতুন সরকার তৈরি করেছে। তারপরই এসপ্ল্যানেড, বড়বাজার অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় গরিব হকারদের ওপর আরএসএস বিজেপির দুষ্কৃতি বাহিনী আক্রমণ চালিয়েছে। বুলডোজার নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় হকারদের ভয় দেখানো হয় তাদের ডালা ভাঙা হয়। তারপরই সকল হকারদের সাথে আলোচনা করে এই প্রতিবাদ মিছিল ডাক দেওয়া হয়। আমরা মিছিল করে এসে বড়বাজার থানায় ডেপুটেশন জমা দিয়েছি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমাদের স্পষ্টবার্তা হকাররা শান্তিপূর্ণভাবে যাতে তাদের রুটি রুজি কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।"
পশ্চিমবঙ্গ ট্রিট হকার ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস দে বলেন, "একদিকে যেমন হকারদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে তাদের রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘অপরদিকে তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে কেন্দ্রীয় হকার আইন অনুযায়ী রাজ্যে কোন হকার আইন করেনি। আমরা দাবি করছি কেন্দ্রীয় হকার আইন মেনে রাজ্যে হকার আইন কার্যকর করতে হবে টাউন ভেন্ডিং কমিটি আইন মেনে তৈরি করতে হবে এবং প্রত্যেক হকার কে ফটো আইডেন্টি কার্ড রাজ্য সরকারের তরফে দিতে হবে।’’
Comments :0