Assembly 2026: Katwa

তাড়ানো হয়েছিল এনটিপিসি-কে, নেই নতুন কারখানা, ক্ষোভের মুখে তৃণমূল-বিজেপি

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

কাটোয়া কেন্দ্রে প্রচারে সিপিআই(এম) প্রার্থী সঞ্জীব কুমার দাস।

শঙ্কর ঘোষাল: কাটোয়া

সিঙ্গুরে টাটা’কে তাড়ানো মমতা ব্যানার্জির দলকে কাটোয়াতে এনটিপিসি’কেও তাড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করছেন এখানকার জমিদাতারা। এনটিপিসি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও ১৫ বছরে কেন একটা কারখানা তৈরি হলো না তা নিয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছেন কাটোয়ার কৃষকরা।
কাটোয়া মানুষের দীর্ঘদিনের জমা এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে এসআইআর। কাটোয়া শহরের ১৯নম্বর ওয়ার্ডে কেশিয়া’তে প্রচারে বেড়িয়েছিলেন তৃণমূলের নেতারা। সেখানকার মানুষ ঘিরে ধরে প্রশ্ন করেন, ভোটে নাম বাদ দিয়ে তোমরা এসেছো ভোট চাইতে! এতদিন কোথায় ছিলে? বিজেপি’র পাশাপাশি এখানকার মানুষ তৃণমূলকে সমান দোষী করে বলেছেন, সরকার তোমাদের, সব লোকজন তোমাদের, তাহলে বাদ যায় কীভাবে? তোমাদের ব্যর্থতার জন্যই আমাদের নাম বাদ গেছে। বিজেপি-তৃণমূল বোঝাপড়া করেই নাম বাদ দিয়েছে হাজার হাজার মানুষ সেই ক্ষোভে ফুঁসছেন মানুষ। চোখের জল ফেলছেন, কেউ বলেছেন দুই ফুলকেই তাঁরা জব্দ করবেন। স্থানীয় তৃণমূলের কাউন্সিলর এই ক্ষোভে প্রলেপ দিতে গেলে তাঁকে এলাকার মানুষ তাড়া করে ছুটিয়েছেন। এটা হলো প্রথম পর্ব। এরপর খবর পেয়ে তৃণমূলের বিধায়ক রবি চ্যাটার্জি ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেছেন ভোটার তালিকায় নাম নেই তো কি হয়েছে, ভোটের দিন সবাই ভোট দিবি! 
হাজার হাজার মানুষের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও একটা সরকার শিল্প তৈরি করতে কোনরকম সহযোগিতা করলো না এনটিপিসি’কে। এরপরও কি এলাকার জমিদাতা, যুবকরা প্রত্যাশা করবেন মমতা ব্যানার্জির সরকার তাঁদের কাজ, রুজি রুটির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে? এমনই আফশোষ রয়ে গেছে সিঙ্গুরের মতো কাটোয়ার জমিদাতা কৃষকদেরও। পাশাপাশি, বিজেপি’কেও কাঠগড়ায় চড়িয়েছেন স্থানীয় মানুষ।। এই জমিতে যাতে শিল্প গড়ে না উঠতে পারে তার জন্য বিজেপি নানা ষড়যন্ত্র করেছে তৃণমূলের সাথে। ঘটনা হলো, ২০০৫সালে কাটোয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় রাজ্যের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। শিল্পের জন্য কাটোয়া কৃষকরা স্বেচ্ছায় ৫৫৬একর জমি দিয়েছিলেন সরকারকে। তারপর এনটিপিসি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আরো ১৯৮একর জমি কিনেছিল। এই জমি দেওয়ার পেছনে একটাই কারণ ছিল এখানে শিল্প হলে কর্মসংস্থান হবে, বাজার, গঞ্জ গড়ে উঠবে। কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ হলো, পাঁচিল দিয়ে সেই জমি ঘেরাও হলো। এমনকি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বর্ধমান থেকে কাটোয়া ন্যারোগেজ থেকে ব্রডগেজ রেললাইন তৈরি করে দেওয়া হলো। তাপবিদ্যুৎ তৈরি করবে বলে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে অপেক্ষা করে রইল এনটিপিসি। কিন্তু তৃণমূল সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সিপিআই(এম) নেতা অচিন্ত্য মল্লিক বলছেন, এটা শুধু কাটোয়ার নয়, গোটা কাটোয়ার মহকুমার দাবি এই জমিতে শিল্প হোক। কিন্তু এই সরকারকে না তাড়াতে পারলে রাজ্যে কোথাও কোনও শিল্প আসবে না। 
অন্য অঞ্চলের মতো কাটোয়া মহকুমার হাজার হাজার ছেলে এখানে কোনও কাজ না পেয়ে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে।  সেই  ক্ষোভের কথা কাটোয়ার সিপিআই(এম) প্রার্থী সকলের প্রিয় ‘মাস্টারমশাই’ সঞ্জীব কুমার দাস’কে শুনিয়েছেন মানুষ। তাঁদেরও বক্তব্য, বামপন্থীরা আবার এগিয়ে না এলে বাংলা রসাতলে যেতে বসেছে। কাটোয়া বিধানসভার মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, আর কবে! আর কবে কাটোয়া রেলগেটে উড়ালপুল হবে, গঙ্গার উপর সেতুই বা কবে হবে! ভোট এলেই শাসকদল প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু ভোট মিটলেই আর সে পথে হাঁটে না। আর কবে কাটোয়ায় অসম্পূর্ণ স্টেডিয়াম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে! 
সিপিআই(এম) নেতা প্রকাশ সরকার বললেন,  কাটোয়া শহরজুড়ে পৌর পরিষেবার নামে অতিরিক্ত কর, উন্নয়নের ফি’র আড়ালে তোলাবাজি চলছে। এছাড়াও পরিবহণের জুলুমবাজি, কাটোয়ার তাপবিদ্যুৎ  ১৫ বছরেও কেন পূর্ণতা  পেলো না তৃণমূলের কাছে জবাব চাইছে কাটোয়া থানার মানুষ। অভিযোগ, কাটোয়ার বিধায়ককে ঘিরে একটা চক্র গড়ে উঠেছে এই শহরে ২০টি ওয়ার্ডেই রাস্তার সমস্যা মিটছে না। একই রাস্তা বছরে ২-৩ বার ঠিকাদারের সাথে বোঝাপড়া করে ঢালাই হচ্ছে। এই শহরে যে কোন কাজ করতে গেলে তৃণমূল অফিসে নজরানা না দিলে কাজ বন্ধ। এছাড়া এই শহরে গুন্ডারাজ থেকে মুক্তি পেতে হাঁপিয়ে উঠেছেন মানুষ। 
এদিকে, কাটোয়া এলাকার মানুষের আশঙ্কা, অবাধ শান্তিপূর্ণ ভোট হবে তো? কারণ, এবার রবি চ্যাটার্জি যেন অনেকটাই ব্যাকফুটে। তাঁর প্রচার তেমন জমছে না। মানুষ তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে, মানুষের ক্ষোভ, আতঙ্কে পাশে থেকে সিপিআই(এম) কর্মীরা ক্যাম্প করে বার্তা দিতে চেয়েছে এই ভোটে দুই ফুলের ষড়যন্ত্রে নাম বাদ গেলেও পরের ভোটে লড়াই্’তে তাঁরা যাতে থাকতে পারেন সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। 

Comments :0

Login to leave a comment