editorial

ভোট উত্তর ছক

সম্পাদকীয় বিভাগ

নির্বাচন শেষ, দু’-চারদিনের মধ্যে রাজ্যগুলিতে নতুন সরকার গঠনও হয়ে যাবে। এ যাত্রায় বিজেপি’র ‘বিরাট’ জয় মোদী-শাহ-দের তাদের আসল অ্যাজেন্ডাগুলি রূপায়ণে মনোনিবেশ করতে চাইছেন। ভোটের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আইন সংশোধন করে জাতীয় গান বন্দেমাতরমের মর্যাদা উন্নত করে জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন-র সমমর্যাদায় আনা হবে যাতে আগামীদিনে ধর্মীয় অনুষঙ্গযুক্ত বন্দেমাতরমকে সর্বত্র জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ব্যবহার করা যায়। তেমনি বন্দেমাতরমের পুরো অংশকেই জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় সঙ্গীতের ধর্মনিরপেক্ষ অবয়বকে ভেঙে ধর্মীয় চেহারায় রূপ দিতে চায়। অভীষ্ট হিন্দুরাষ্ট্রের জন্য হিন্দুত্ববাদী আরএসএস-বিজেপি’র কাছে ধর্মীয় বিষয় বর্জিত জনগণমন কাঙ্ক্ষিত নয়।
ভোট পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য থেকে স্পষ্ট হচ্ছে এবার তাঁরা নতুন করে মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার অভিযানে নামবেন। মোদী বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেছেন নির্বাচনে মহিলারা বিরোধীদের শাস্তি দিয়েছে। পাঁচ রাজ্যে ভোট চলাকালীন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণের নামে আসলে আসন পুনর্বিন্যাসের বিল পাশ করিয়ে নেবার ছক করেছিলেন। ভেবেছিলেন বিল পাশ হলে মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক অবদানের জন্য দেশ জুড়ে মহিলারা ধন্য ধন্য করবে। আর পাশ না হলে তার সব দায় বিরোধীদের ঘাড়ে চাপিয়ে তাদের নারী বিদ্বেষী বলে প্রচারের ঝড় তোলা হবে। বাস্তবে সেটাই তারা করেছিলেন সংসদে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা বিল আটকে দেবার পর।
এক্ষেত্রে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে মহিলাপ্রেমী সাজার চেষ্টা হলেও এই বিল যতটা না মহিলাদের স্বার্থবাহী ছিল তার চেয়ে অনেক বড় শয়তানি ছিল কৌশলে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে জনবহুল গোবলয়ের রাজ্যগুলি থেকে জিতেই কেন্দ্রে সরকার দখলের হিসাব। লোকসভার বর্তমান আসন ৫৪৪ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল সিংহভাগই উত্তর ভারতে বাড়ানো। যাতে গোবলয়ের কয়েকটি রাজ্য থেকে ৪২৬টি আসন জিতে চোখ বুঝে ক্ষমতায় আসা। ২০২৯ সালে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত করতেই এমন কৌশল।
ঘটনা হলো মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩ সালেই সমস্ত বিরোধী দলের সমর্থনে পাশ হয়ে গেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি বিরোধীরা করলেও মোদীরা সেটা করেনি। এমনকি অনায়াসে আগামী লোকসভা নির্বাচনে সেটা কার্যকর করতে পারে, কেউ আপত্তি করবে না। কিন্তু মোদীরা সেটা চান না। তারা চান আসলে আসন সংখ্যা বাড়াতে। আর সেটাকে গ্রহণযোগ্য করতে ইতিমধ্যে পাশ হয়ে যাওয়া মহিলা বিলকে তার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। এটা অসততা এবং প্রতারণার শামিল।

Comments :0

Login to leave a comment